আসন্ন ধর্মীয় উৎসব এবং ইসরাইল-হামাস সংঘাতের বর্ষপূর্তিকে ঘিরে বিদেশে অবস্থানরত নিজেদের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে সতর্কতা জারি করেছে ইসরাইল। দেশটির ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল (এনএসসি) বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত ইসরাইলি ও ইহুদিদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কা বেড়েছে বলে জানিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ইসরাইলিদের জন্য উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশের নামও রাখা হয়েছে।
জেরুজালেম পোস্টের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, ইরান ও দেশটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বিভিন্ন গোষ্ঠী বিদেশে অবস্থানরত ইসরাইলি নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালাতে পারে। একই সঙ্গে আগামী অক্টোবরে ইসরাইল-হামাস সংঘাতের বর্ষপূর্তিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন দেশে ইসরাইলবিরোধী বিক্ষোভ, উত্তেজনা এবং সহিংসতার ঘটনা বাড়তে পারে বলে মনে করছে দেশটির নিরাপত্তা সংস্থাগুলো।
এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ছাড়াও পাকিস্তান, আফগানিস্তান, সোমালিয়া, লিবিয়া ও আলজেরিয়াকে ইসরাইলিদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব দেশে ভ্রমণের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি প্রয়োজন ছাড়া সফর এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে ইরান, সিরিয়া, লেবানন, ইরাক ও ইয়েমেনে ইসরাইলিদের ভ্রমণ নিষিদ্ধ রয়েছে। এসব দেশে যাতায়াতের ক্ষেত্রে ইসরাইলি নাগরিকদের জন্য কঠোর বিধিনিষেধ কার্যকর রয়েছে। জর্ডান, কাতার, মিসর ও তুরস্ককেও ঝুঁকিপূর্ণ গন্তব্যের তালিকায় রাখা হয়েছে।
বিদেশে অবস্থানরত ইসরাইলিদের নিজেদের পরিচয় প্রকাশ না করার ব্যাপারেও সতর্ক করেছে এনএসসি। জনসমক্ষে হিব্রু ভাষায় কথা বলা, ইসরাইলি বা ইহুদি পরিচয় স্পষ্ট করে এমন ধর্মীয় পোশাক ও প্রতীক ব্যবহার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অবস্থান বা ভ্রমণসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা সতর্কতায় আরও বলা হয়েছে, বিদেশে থাকা ইসরাইলিদের যেকোনো ধরনের বিক্ষোভ, সমাবেশ কিংবা রাজনৈতিক উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি থেকে দূরে থাকতে হবে। একই সঙ্গে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সহায়তা পাওয়ার ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের এই সতর্কতার পেছনে মূল উদ্বেগ হলো, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব ইসরাইলের বাইরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে ইসরাইল-হামাস যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন দেশে ইসরাইলবিরোধী ক্ষোভ ও প্রতিবাদ দেখা দেওয়ায় বিদেশে ইসরাইলি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশের নাম উচ্চ ঝুঁকির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার অর্থ দেশটিতে ইসরাইলি নাগরিকদের ওপর হামলা ঘটেছে—এমন কোনো তথ্য নয়। বরং ইসরাইলের নিজস্ব নিরাপত্তা মূল্যায়নের ভিত্তিতে সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে দেশটির নাগরিকদের জন্য এই ভ্রমণ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।