প্রবাসী আয়ে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে বৈধপথে ও ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে ২৭৪ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৩৩ হাজার ৬৯৫ কোটি টাকা। প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা হিসাবে এই অর্থের হিসাব করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এক বছর আগের একই মাসের তুলনায় চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে দেশে প্রবাসী আয় এসেছিল ২৬৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭৪ কোটি ৫০ লাখ ডলারে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে মাসিক রেমিট্যান্স বেড়েছে প্রায় ৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার, যা শতাংশের হিসাবে প্রায় ২ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি।
শুধু সেপ্টেম্বর নয়, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসেও প্রবাসী আয়ে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসে প্রবাসীরা মোট ৮৫৭ কোটি ১০ লাখ ডলার দেশে পাঠিয়েছেন।
অন্যদিকে, আগের অর্থবছরের একই সময়ে দেশে এসেছিল ৭৫৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার। সে হিসাবে চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্স বেড়েছে ৯৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার। শতাংশের হিসাবে এ প্রবৃদ্ধি প্রায় ১৩ শতাংশ।
প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বৈধপথে রেমিট্যান্স বাড়লে ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বাড়ে। একই সঙ্গে আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক লেনদেন এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়ে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, সামষ্টিক অর্থনীতির বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রেমিট্যান্সের ধারাবাহিকতা গুরুত্বপূর্ণ। প্রবাসী আয় বাড়ার এই প্রবণতা ধরে রাখতে নীতিগত সহায়তা অব্যাহত রাখা গেলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই প্রবাসী আয়ে প্রবৃদ্ধির ধারা রয়েছে। সেপ্টেম্বরের মাসিক হিসাব এবং জুলাই-সেপ্টেম্বরের সামগ্রিক প্রবাহ—দুই ক্ষেত্রেই আগের বছরের তুলনায় বেশি রেমিট্যান্স দেশে এসেছে।