পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের জটিলতা কাটিয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য পারমাণবিক জ্বালানি আগামীকাল শুক্রবার বাংলাদেশে আসছে। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন থাকায় রাশিয়া থেকে বিশেষ কার্গো উড়োজাহাজে করে জ্বালানি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। পরে শনিবার কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্য দিয়ে বিশেষ ব্যবস্থায় এসব জ্বালানি পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নেওয়া হবে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পারমাণবিক জ্বালানি পরিবহনের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত নতুন কোনো জটিলতা দেখা দেয়নি। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী পরিবহন কার্যক্রম সম্পন্ন করার প্রস্তুতি রয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবারই জ্বালানি দেশে পৌঁছানোর কথা ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে নির্ধারিত ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় পরিবহন এক দিন পিছিয়ে যায়। নতুন সূচি অনুযায়ী শুক্রবার দুপুরের মধ্যে বিশেষ কার্গো উড়োজাহাজটি ঢাকায় পৌঁছানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, অত্যন্ত স্পর্শকাতর এই পারমাণবিক জ্বালানি বিশেষ কার্গো বিমানে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে দেশে আনা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক আকাশপথ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আগাম অনুমোদন প্রয়োজন হয়। রাশিয়া ও বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করলেও পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় বৃহস্পতিবারের নির্ধারিত ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য সাতটি কার্গো এবং প্রথম ইউনিটের রিফুয়েলিংয়ের জন্য দুটি কার্গোতে মোট নয়টি চালানে পারমাণবিক জ্বালানি দেশে আনা হবে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রসাটম জানিয়েছে, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে পুরো জ্বালানি সরবরাহ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে রূপপুরের প্রথম ইউনিটের কমিশনিং কার্যক্রমেও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। বুধবার সকালে ১৬ মেগাপাসকেল উচ্চচাপে প্রেসার-অপারেটেড রিলিফ ভাল্ভের পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়। রোসাটম জানিয়েছে, ত্রুটি সংশোধনের পর মঙ্গলবার রাতে শুরু হওয়া পরীক্ষা বুধবার সকালে শেষ হয়।
প্রধান নিয়ন্ত্রণকক্ষ ও জরুরি নিয়ন্ত্রণকক্ষ—দুই জায়গা থেকেই পরীক্ষা পরিচালনা করা হয়। এ সময় নিয়ন্ত্রণ ভাল্বগুলোর কার্যকারিতা, নিরাপত্তা ভাল্বের প্রতিক্রিয়া, ভাল্বের খোলা ও বন্ধ হওয়ার প্রক্রিয়া, অ্যালার্মসহ বিভিন্ন কারিগরি বিষয় পর্যবেক্ষণ করা হয়। অনুমোদিত পদ্ধতি ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা শর্ত মেনেই পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় রসাটম ও এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে। পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন দুই ইউনিটের কেন্দ্রটির মোট উৎপাদন সক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট।