• শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩২ পূর্বাহ্ন

মেট্রোর দুই লাইনে ৪৬ হাজার কোটি টাকার কাজ অনুমোদন

newsline24 / ১৩ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬
মেট্রোর দুই লাইনে ৪৬ হাজার কোটি টাকার কাজ অনুমোদন
মেট্রোর দুই লাইনে ৪৬ হাজার কোটি টাকার কাজ অনুমোদন

ঢাকার মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে লাইন-১ ও লাইন-৫-এর বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণে প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকার ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মেট্রোরেলের আটটি ক্রয় প্রস্তাব বিবেচনা করা হয়। এর মধ্যে পাঁচটি প্রস্তাব অনুমোদন এবং তিনটি অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

অনুমোদিত কাজের মধ্যে রয়েছে লাইন-১-এর সিপি-০২, সিপি-০৬, সিপি-০৯ ও সিপি-১০ এবং লাইন-৫-এর সিপি-০৩ প্যাকেজ। এসব প্যাকেজে ডিপো, ভূগর্ভস্থ ও উড়ালপথ, স্টেশন, ট্র্যাক, বিদ্যুৎ সরবরাহ, সংকেত, টেলিযোগাযোগ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।

লাইন-১-এর সিপি-০২ প্যাকেজে ডিপোর ওয়ার্কশপ, স্ট্যাবলিং শেড, অপারেশন ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র, কারিগরি ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র এবং বিভিন্ন উপকেন্দ্র ও ট্র্যাকশন অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। ভ্যাট ও করসহ এ কাজের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ২৮৫ কোটি ৬ লাখ ৯৩ হাজার ৫৫৮ টাকা। প্রাক্‌-যোগ্যতা পাওয়া তিনটি প্রতিষ্ঠানই দরপত্র জমা দেয়। কারিগরিভাবে গ্রহণযোগ্য প্রস্তাবগুলোর মধ্যে সিনোহাইড্রো-এসইবিসিএল যৌথ উদ্যোগকে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে সুপারিশ করা হয়েছে।

সিপি-০৬ প্যাকেজে নাড্ডা স্টেশনের উত্তর প্রান্ত থেকে বিমানবন্দর স্টেশন পর্যন্ত ৫ দশমিক ১৮২ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ পথ নির্মাণ হবে। এতে দুটি সুড়ঙ্গ, বিমানবন্দর, বিমানবন্দর টার্মিনাল-৩ ও খেলক্ষেত—এই তিনটি ভূগর্ভস্থ স্টেশন এবং টিবিএম চালুর জন্য শ্যাফট থাকবে। ব্যয় ধরা হয়েছে ১১ হাজার ৫৯০ কোটি ৫৮ লাখ ৭ হাজার ২৯৯ টাকা। নিশিমাতসু-টিপিএল-টোডা যৌথ উদ্যোগকে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে সুপারিশ করা হয়েছে।

সিপি-০৯ প্যাকেজে রেল, টার্নআউট, পয়েন্ট ও ক্রসিংসহ ট্র্যাক নির্মাণের পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহ ও বিতরণব্যবস্থা স্থাপন করা হবে। এতে ১৩২ কেভি প্রাথমিক ফিডার, রিসিভিং ও সহায়ক উপকেন্দ্র, ৩৩/০.৪১৫ কেভি বিতরণ নেটওয়ার্ক এবং ১ হাজার ৫০০ ভোল্টের ওভারহেড বিদ্যুৎ সংযোগ থাকবে। এ কাজের ব্যয় ১১ হাজার ৬৫ কোটি ৫৭ লাখ ৭২ হাজার ১৫০ টাকা।

সিপি-১০ প্যাকেজে সংকেত, টেলিযোগাযোগ, প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন দরজা ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে। যোগাযোগভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় ট্রেন নিয়ন্ত্রণ, অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক এবং এলটিই প্রযুক্তির বেতার যোগাযোগও এতে থাকবে। ব্যয় ৬ হাজার ৪৪৬ কোটি ৬৫ লাখ ৩১ হাজার ৭১৬ টাকা।

অন্যদিকে, লাইন-৫-এর সিপি-০৩ প্যাকেজে হেমায়েতপুর থেকে আমিনবাজার পর্যন্ত প্রায় ৫ দশমিক ৬ কিলোমিটার এবং নতুন বাজারের পর থেকে ভাটারা পর্যন্ত ৯০০ মিটার উড়ালপথ নির্মাণ হবে। মোট ৬ দশমিক ৫০ কিলোমিটার উড়ালপথের পাশাপাশি হেমায়েতপুর, বলিয়ারপুর, বিলামালিয়া, আমিনবাজার ও ভাটারায় পাঁচটি উড়াল স্টেশন নির্মাণ করা হবে। ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৬৭০ কোটি ৯৮ লাখ ৯৭ হাজার ৮৬০ টাকা।

এ ছাড়া লাইন-১-এর সিপি-০৪ ও সিপি-০৭ এবং লাইন-৫ উত্তর রুটের সিপি-০২ প্যাকেজের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। সিপি-০৪ প্যাকেজে রামপুরা স্টেশনের উত্তর প্রান্ত থেকে নতুন বাজার পর্যন্ত প্রধান লাইন ও স্টেশন নির্মাণে মূল চুক্তিমূল্য ১৮ হাজার ৩৭ কোটি ২৫ লাখ ৮৯ হাজার ৬৫৬ টাকা। সিপি-০৭ প্যাকেজে ৫ দশমিক ০০৭ কিলোমিটার প্রধান লাইন ও স্টেশন নির্মাণের মূল চুক্তিমূল্য ২ হাজার ৫৩৪ কোটি ৯ লাখ ৪৩ হাজার ২৪১ টাকা। আর লাইন-৫ উত্তর রুটের সিপি-০২ প্যাকেজে ডিপোর পূর্ত ও ভবন নির্মাণে মূল চুক্তিমূল্য ১ হাজার ৮৪৭ কোটি ৫২ লাখ ৪২ হাজার ৬৫৮ টাকা।

লাইন-১ ও লাইন-৫-এর প্রথম সংশোধিত প্রকল্প গত ১৬ সেপ্টেম্বর একনেকে অনুমোদিত হয়েছে। প্রকল্প দুটির মেয়াদ ২০১৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০৩৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) প্রকল্প দুটি বাস্তবায়ন করছে। বাংলাদেশ সরকার ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) যৌথভাবে এসব প্রকল্পে অর্থায়ন করছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category