জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সঙ্গে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কোনো শর্ত সরাসরি যুক্ত নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তাঁর ভাষ্য, জ্বালানি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতে সরকারের বড় অঙ্কের ভর্তুকি কমানোর প্রয়োজন থেকেই মূল্য সমন্বয়ের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রগতি ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে আইএমএফের কোনো শর্ত রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, এমন কোনো শর্ত নেই। তবে আইএমএফের সাধারণ নীতির মধ্যে সরকারের অতিরিক্ত ভর্তুকি না দেওয়ার বিষয়টি রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সরকারের নেওয়া সব সিদ্ধান্ত যে আইএমএফের পরামর্শ বা অবস্থানের সঙ্গে মিলেই হচ্ছে, বিষয়টি এমন নয়। সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প ও কর্মসূচি নিয়েও আইএমএফ সব সময় স্বস্তিতে আছে—এমনটি বলা যায় না। জনগণের কল্যাণ বিবেচনায় সরকার নিজস্ব সিদ্ধান্তেই এসব কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
জ্বালানি খাতের ভর্তুকির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, শুধু তরল জ্বালানিতে দেওয়া ভর্তুকি বিবেচনা করলে পরিস্থিতির পুরো চিত্র পাওয়া যাবে না। এর সঙ্গে গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতের ভর্তুকি যুক্ত করলে সরকারের ওপর এর আর্থিক চাপ আরও বড় হয়ে ওঠে। এই ভর্তুকির পরিমাণ কমানো প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে ভর্তুকি কতটা কমানো হবে এবং কোন খাতে কী পরিমাণ সমন্বয় করা সম্ভব—এ নিয়ে সরকার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বলে জানান জাহেদ উর রহমান। অর্থাৎ, জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয়ের ক্ষেত্রে সরকারের প্রধান বিবেচনা হচ্ছে ভর্তুকির চাপ কমানো এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার সঙ্গে তা সামঞ্জস্য করা।
এর আগে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো নিয়ে আইএমএফের শর্তের বিষয়টি আলোচনায় এলেও সরকারের পক্ষ থেকে এর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক থাকার কথা অস্বীকার করা হয়েছে। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীও এপ্রিল মাসে বলেছিলেন, জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় আইএমএফের কোনো শর্ত পূরণের জন্য করা হয়নি।
এদিকে জ্বালানি খাতে ভর্তুকি কমানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতিও সাম্প্রতিক সময়ে দেশের জ্বালানি মূল্যে প্রভাব ফেলছে। ফলে মূল্য নির্ধারণ, সরকারি ভর্তুকি এবং সাধারণ মানুষের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব—এই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখেই জ্বালানি খাতে সরকারের সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হচ্ছে।