• শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৬ অপরাহ্ন

মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হার বাংলাদেশের

newsline24 / ২১ Time View
Update : শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হার বাংলাদেশের
মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হার বাংলাদেশের

র‌্যাংকিংয়ের ব্যবধান মাঠেও স্পষ্ট হয়ে উঠল। আসিয়ান কাপের শুরুতেই শক্তিশালী মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হেরে টুর্নামেন্টে হতাশাজনক যাত্রা শুরু করেছে বাংলাদেশ। ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তার গেলোরা বুং কর্ন স্টেডিয়ামে পুরো ম্যাচে মালয়েশিয়ার আক্রমণের চাপ সামলাতেই বেশি সময় কাটাতে হয়েছে হামজা চৌধুরী ও তাঁর সতীর্থদের।

ফিফা র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ১৮১, আর মালয়েশিয়া রয়েছে ১৩৬ নম্বরে। মাঠের পারফরম্যান্সেও সেই পার্থক্যের ছাপ ছিল পরিষ্কার। মালয়েশিয়ার হয়ে জোড়া গোল করেন আরিফ আয়মান। অন্য গোলটি করেন ব্রাজিলিয়ান বংশোদ্ভূত স্ট্রাইকার বার্গসন, যিনি এ ম্যাচ দিয়েই মালয়েশিয়ার জার্সিতে অভিষেক করেছেন।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে মালয়েশিয়া। বাংলাদেশের রক্ষণভাগকে বেশ কয়েকবার পরীক্ষায় ফেলেন তাদের ফরোয়ার্ডরা। ১৮ মিনিটে সেই চাপের ফলও পেয়ে যায় স্বাগতিক দল। ডান প্রান্ত দিয়ে আক্রমণ গড়ে বক্সে ঢুকে পড়া আয়মান গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণের দুই পায়ের মাঝ দিয়ে বল পাঠিয়ে মালয়েশিয়াকে এগিয়ে দেন।

প্রথম গোলের পরও বাংলাদেশের ওপর চাপ কমেনি। ৩৮ মিনিটে আবারও জালের দেখা পান আয়মান। ডি-বক্সের সামনে শাকিল আহাদ তপু বল পরিষ্কার না করে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করলে সুযোগটি কাজে লাগান মালয়েশিয়ার ফরোয়ার্ড। বল পেয়ে দ্রুত শট নিয়ে বাংলাদেশের গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন তিনি।

প্রথমার্ধের শেষ দিকে তৃতীয় গোলও পেতে পারত মালয়েশিয়া। ৪৪ মিনিটে দারুণ এক সেভ করে বাংলাদেশকে সেই বিপদ থেকে রক্ষা করেন শ্রাবণ। বিপরীতে প্রথম ৪৫ মিনিটে মালয়েশিয়ার গোলরক্ষককে পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি বাংলাদেশ; জালে যাওয়ার মতো একটি শটও নিতে পারেনি তারা।

বিরতির পরও ম্যাচের চিত্র বদলায়নি। বরং ৫৩ মিনিটে ব্যবধান আরও বাড়ায় মালয়েশিয়া। বক্সের মধ্যে বল পেয়ে দ্রুত শরীর ঘুরিয়ে নিখুঁত ফিনিশিং করেন অভিষিক্ত বার্গসন। তাঁর শট ঠেকাতে শ্রাবণ ঝাঁপিয়ে পড়লেও বলের গতির সঙ্গে পেরে ওঠেননি।

তিন গোল হজমের পর বাংলাদেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি। ৭৬ মিনিটে শাহরিয়ান ইমনের পাস থেকে গোলের ভালো সুযোগ পেয়েছিলেন হামজা চৌধুরী। গোলরক্ষককে একা পেয়েও তাঁর শরীর বরাবর শট নেন হামজা। ফিরতি বল থেকেও গোল করার চেষ্টা করেন তিনি, কিন্তু মালয়েশিয়ার গোলরক্ষক আবারও বাধা হয়ে দাঁড়ান। কর্নারের বিনিময়ে বিপদমুক্ত হয় মালয়েশিয়া।

ছয় মিনিট পর আরও একটি সুযোগ আসে বাংলাদেশের সামনে। এবার শাহরিয়ান ইমন নিজেই শট নেন। কিন্তু সেটি ছিল গোলরক্ষকের জন্য সহজেই নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার মতো। ফলে ব্যবধান কমানোর সুযোগও হাতছাড়া হয়।

উল্টো ৮৩ মিনিটে চতুর্থ গোলের খুব কাছাকাছি চলে গিয়েছিল মালয়েশিয়া। ফারগাস তিয়ারনির জোরালো শট বারে লেগে ফিরে আসে। বলটি জালে জড়ালে বাংলাদেশের পরাজয়ের ব্যবধান আরও বড় হতে পারত। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় ৩-০ ব্যবধানেই ম্যাচ শেষ হয়।

বাংলাদেশের জন্য ম্যাচটি ছিল কয়েকজন নতুন মুখের অভিষেকের মঞ্চও। জাতীয় দলের জার্সিতে প্রথমবার মাঠে নামেন ফারহান আলী ওয়াহিদ, শুকি ইতোফুসা ও জিদান ইউসুফ। তবে অভিষেকের দিনটি জয় দিয়ে স্মরণীয় করে রাখতে পারেননি তিন প্রবাসী ফুটবলার।

মালয়েশিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের পরিসংখ্যানও সুখকর নয়। দুই দলের ১১ দেখায় বাংলাদেশ জিতেছে মাত্র একবার। আট ম্যাচে হার এবং দুটি ম্যাচে ড্র—এই পরিসংখ্যানই মালয়েশিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের কঠিন লড়াইয়ের চিত্র তুলে ধরে। আসিয়ান কাপের শুরুতেই সেই ব্যবধান আবারও মাঠের খেলায় স্পষ্ট হলো।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category