• মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩৮ অপরাহ্ন

শিল্পাঞ্চলে গ্যাসের চাপ বাড়ছে, স্বাভাবিক হওয়ার আশা

newsline24 / ১৩ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
শিল্পাঞ্চলে গ্যাসের চাপ বাড়ছে, স্বাভাবিক হওয়ার আশা
শিল্পাঞ্চলে গ্যাসের চাপ বাড়ছে, স্বাভাবিক হওয়ার আশা

জাতীয় গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইনে সরবরাহ বাড়ানোর পর দেশের শিল্প-কারখানাগুলোতে গ্যাস সংকটের পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম অঞ্চলের শিল্পকারখানাগুলোতে গ্যাসের চাপ প্রায় স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরেছে। দেশের অন্যান্য শিল্পাঞ্চলেও সরবরাহ বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ব্যবসায়ী নেতারা আশা করছেন, মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবারের মধ্যে অধিকাংশ শিল্পাঞ্চলে গ্যাসের চাপ আরও বাড়বে এবং উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক গতিতে ফিরতে শুরু করবে।

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এফবিসিসিআই) প্রশাসক মো. ফজলুল হক বলেন, গ্যাসের সরবরাহ ক্রমাগত বাড়ছে। জাতীয় সঞ্চালন পাইপলাইনে এরই মধ্যে গ্যাসের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে দীর্ঘদিনের সংকট কাটিয়ে পরিস্থিতি আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর জাতীয় গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইনে চাপ অনেক বেড়েছে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে কম চাপের কারণে উত্তর, পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের হাজার হাজার গ্রাহকের কাছে স্বাভাবিক চাপে গ্যাস পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগবে। মঙ্গলবার রাত অথবা বুধবার ভোরের মধ্যে অধিকাংশ এলাকায় সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এর আগে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে শিল্প-কারখানায় গ্যাস সরবরাহ প্রায় দেড় মাস আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া হবে। সেই ঘোষণার পর শিল্প মালিক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি দেখা দেয়। এর পরদিনই জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বাড়ার তথ্য পাওয়া গেল।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় জাতীয় গ্রিডে ২৬০ দশমিক ৬ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে। আগের দিন একই সময়ে সরবরাহ ছিল ২৩৪ দশমিক ৫৩ কোটি ঘনফুট। অর্থাৎ এক দিনের ব্যবধানে একই সময়ে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বেড়েছে প্রায় ২৬ কোটি ঘনফুট।

গ্যাস সরবরাহ বাড়ার প্রভাব সবচেয়ে স্পষ্টভাবে দেখা গেছে চট্টগ্রাম অঞ্চলে। বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানান, চট্টগ্রাম অঞ্চলে গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক হয়েছে এবং আগের তুলনায় অনেক ভালো চাপ পাওয়া যাচ্ছে।

তবে ঢাকা ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলগুলোর পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হতে আরও কিছুটা সময় লাগবে বলে জানান তিনি। তাঁর মতে, কারখানা মালিকদের কাছ থেকে বুধবার সকালে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এসব এলাকার প্রকৃত পরিস্থিতি আরও পরিষ্কার হবে।

মোহাম্মদ হাতেম আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সকাল থেকেই গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলের কারখানা মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পাওয়া তথ্য নিয়মিতভাবে সেখানে জানানো হচ্ছে। ফলে কোন অঞ্চলে সরবরাহ কতটা বাড়ছে, কোথায় এখনো সংকট রয়েছে—এসব বিষয়ে ধারাবাহিকভাবে তথ্য নেওয়া হচ্ছে।

সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম জোনে গ্যাস সরবরাহে দৃশ্যমান উন্নতি হলেও ঢাকা, ময়মনসিংহ, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, সাভার, আশুলিয়া, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীর শিল্পাঞ্চলে তখনও বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি। তবে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ বাড়তে থাকায় এসব এলাকাতেও রাতের পর গ্যাসের চাপ বাড়ার প্রত্যাশা করছেন ব্যবসায়ীরা।

গাজীপুরের শিল্পকারখানাগুলোতেও মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত গ্যাসের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়েনি। গার্মেন্ট ব্যবসায়ী ও মোশারফ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোশারফ হোসেন জানান, গাজীপুরের কারখানাগুলোতে তখনও আগের মতোই কম চাপ ছিল। তবে জাতীয় পর্যায়ে সরবরাহ বাড়ার যে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তাতে বুধবারের মধ্যে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হতে পারে বলে তিনি আশা করছেন।

শিল্প মালিকদের জন্য গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। কারণ গ্যাসনির্ভর শিল্পকারখানায় পর্যাপ্ত চাপ না থাকলে উৎপাদন ব্যাহত হয়, যন্ত্রপাতির কার্যক্রমে সমস্যা দেখা দিতে পারে এবং নির্ধারিত উৎপাদন পরিকল্পনাও পিছিয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে গার্মেন্ট, নিটওয়্যারসহ বিভিন্ন শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদনের জন্য জ্বালানি সরবরাহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ব্যবসায়ী নেতাদের প্রত্যাশা, জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহের বর্তমান ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকলে চট্টগ্রামের মতো দেশের অন্যান্য শিল্পাঞ্চলেও দ্রুত স্বাভাবিক চাপ ফিরে আসবে। রাত থেকে সরবরাহ বাড়তে শুরু করলে বুধবারের মধ্যে অধিকাংশ কারখানায় উৎপাদন পরিস্থিতি আগের অবস্থায় ফেরার সম্ভাবনা দেখছেন তারা।

এদিকে জাতীয় গ্রিডে এক দিনের ব্যবধানে সরবরাহ বাড়ার বিষয়টি শিল্প মালিকদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি করেছে। এখন তাদের নজর থাকবে বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে সেই বাড়তি সরবরাহ কত দ্রুত এবং কী পরিমাণে পৌঁছায়, তার ওপর। চট্টগ্রামে ইতোমধ্যে স্বাভাবিক চাপ ফিরে আসায় অন্য শিল্পাঞ্চলগুলোতেও একই ধরনের উন্নতির অপেক্ষায় রয়েছেন ব্যবসায়ীরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category