রাজধানী ঢাকায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৪২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে বিভিন্ন ঘটনায় ১৯টি মামলা করা হয়েছে। অভিযানে অস্ত্র, গুলি ও বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ডিএমপির বিভিন্ন বিভাগে পৃথকভাবে অভিযান পরিচালনা করা হয়। সবচেয়ে বেশি গ্রেপ্তার করা হয়েছে মিরপুর বিভাগে। সেখানে ১৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরপর তেজগাঁও বিভাগে ৫৯ জন এবং মতিঝিল বিভাগে ৫৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ছাড়া ওয়ারী বিভাগ থেকে ৫০ জন, উত্তরা বিভাগ থেকে ৫০ জন, লালবাগ বিভাগ থেকে ৩৬ জন এবং রমনা বিভাগ থেকে ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গুলশান বিভাগে গ্রেপ্তার হয়েছেন ২৩ জন। গোয়েন্দা বিভাগ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে আরও পাঁচজনকে।
ডিএমপির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিভাগভিত্তিক গ্রেপ্তারের চিত্র হলো—রমনা ৩২ জন, লালবাগ ৩৬, ওয়ারী ৫০, মতিঝিল ৫৬, তেজগাঁও ৫৯, মিরপুর ১৩৩, গুলশান ২৩, উত্তরা ৫০ এবং গোয়েন্দা বিভাগ পাঁচজন। সব মিলিয়ে এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৪২ জনে।
অভিযান চলাকালে বিভিন্ন স্থান থেকে একটি দেশীয় রিভলবার ও চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি ৬ হাজার ৩২৪ পিস ইয়াবা, ৩৩ পুরিয়া গাঁজা এবং নগদ ৩ হাজার ৪০০ টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ।
এক দিনে এতসংখ্যক গ্রেপ্তারের পাশাপাশি অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারের ঘটনায় রাজধানীতে ডিএমপির চলমান আইনশৃঙ্খলা অভিযানও সামনে এসেছে। তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে কার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগে মামলা হয়েছে, বিজ্ঞপ্তিতে তা বিস্তারিতভাবে জানানো হয়নি। ১৯টি মামলার ধরন ও পৃথক ঘটনায় গ্রেপ্তারের সংখ্যাও আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোতে তদন্ত ও অন্যান্য আইনগত কার্যক্রম শেষে অভিযোগের বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ডিএমপির নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের অভিযান পরিচালিত হয়ে থাকে। এসব অভিযানে অপরাধে জড়িত সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আটক করার পাশাপাশি অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারের ঘটনাও ঘটে। এবারের অভিযানে মিরপুর বিভাগে সর্বোচ্চ সংখ্যক গ্রেপ্তার হলেও নগরীর প্রায় সব কটি পুলিশ বিভাগেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, রাজধানীর মতো ঘনবসতিপূর্ণ নগরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত পুলিশি অভিযান গুরুত্বপূর্ণ। তবে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি প্রতিটি মামলায় অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ডিএমপি জানিয়েছে, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।