রাজধানী ঢাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৯১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে বিভিন্ন ঘটনায় ৩৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযানে একটি বিদেশি রিভলবার, গুলি, বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক ও অন্যান্য আলামত উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এসব তথ্য জানান।
ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর বিভিন্ন থানা ও গোয়েন্দা পুলিশের পৃথক অভিযানে এই গ্রেপ্তার করা হয়। সবচেয়ে বেশি গ্রেপ্তার করা হয়েছে মিরপুর বিভাগ থেকে। সেখানে ১৫৬ জনকে আটক করা হয়। এরপর তেজগাঁও বিভাগে ৫৯ জন, গুলশান বিভাগে ৫৯ জন এবং উত্তরা বিভাগে ৫৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ ছাড়া ওয়ারী ও মতিঝিল বিভাগ থেকে ৪৮ জন করে, লালবাগ বিভাগ থেকে ৪১ জন, রমনা বিভাগ থেকে ২০ জন এবং গোয়েন্দা বিভাগ থেকে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত এসব অভিযানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি মাদক ও অপরাধ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আলামত উদ্ধারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
অভিযানকালে পুলিশের হাতে একটি বিদেশি রিভলবার ও এক রাউন্ড গুলি উদ্ধার হয়। এ ছাড়া চারটি গুলির খোসা পাওয়া গেছে। অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ মাদকও জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১০ হাজার ৭১টি ইয়াবা, ১২০ গ্রাম গাঁজা এবং ৪৪ গ্রাম হেরোইন।
পুলিশের অভিযানে মাদক ও অস্ত্রের বাইরে একটি চাইনিজ কুড়াল, একটি হাঁসুয়া এবং একটি জিআই পাইপও উদ্ধার করা হয়েছে। এসব আলামত অপরাধের বিভিন্ন ঘটনায় ব্যবহৃত হয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।
এ ছাড়া একটি মনিটর, একটি সিপিইউ এবং ছয়টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানের সময় একজন ভিকটিমকেও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে ওই ভিকটিমের পরিচয় বা তাকে কোন পরিস্থিতিতে উদ্ধার করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।
ডিএমপির অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবেই এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে বিভিন্ন ধরনের আলামত ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে এবং এসব ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্র, মাদক ও অন্যান্য আলামতও সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্তে বিবেচনায় নেওয়া হবে।
রাজধানীর মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। তবে এসব অভিযানের পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া আলামতের উৎস, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং মামলার তদন্ত যথাযথভাবে সম্পন্ন করাও গুরুত্বপূর্ণ। গ্রেপ্তারের পর তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হবে।