• শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৫৮ অপরাহ্ন

যশোরে বটিতে মাকে হ/ত্যা, শিক্ষক ছেলে পলাতক

newsline24 / ৪ Time View
Update : শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬
যশোরে বটিতে মাকে হত্যা, শিক্ষক ছেলে পলাতক
যশোরে বটিতে মাকে হত্যা, শিক্ষক ছেলে পলাতক

যশোর সদর উপজেলার দেয়াড়া ইউনিয়নের বাজেদুর্গাপুর গ্রামে পারিবারিক বিরোধের জেরে মাকে ধারালো বটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ছেলের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত ছেলে পালিয়ে গেছেন। তাঁকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

নিহত আনোয়ারা বেগমের বয়স ৫৮ বছর। তিনি বাজেদুর্গাপুর গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আলতাফ হোসেন মাস্টারের স্ত্রী। তাঁর ছেলে মো. মামুনুর রশিদ ওরফে মামুন (৪৫) লাউজানী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। মাকে হত্যার অভিযোগ এখন তাঁর বিরুদ্ধেই।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মামুনের আগে দুটি বিয়ে হয়েছিল। দাম্পত্য কলহের কারণে দুটিই বিচ্ছেদে গড়ায়। এসব বিয়ে ভেঙে যাওয়ার জন্য মামুন তাঁর মা আনোয়ারা বেগমকে দায়ী করতেন। বিষয়টি নিয়ে মা-ছেলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। একাধিকবার তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান স্থানীয়দের বরাত দিয়ে বলেন, পারিবারিক অশান্তির কারণে মামুন মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। প্রায় তিন বছর আগে তাঁকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে তিনি দুই থেকে তিন মাস চিকিৎসা নেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় পর বৃহস্পতিবার মামুন বাড়িতে ফেরেন। বাড়িতে ফেরার পর মায়ের সঙ্গে পারিবারিক বিষয় নিয়ে তাঁর বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে মামুন ঘরে থাকা ধারালো বটি দিয়ে আনোয়ারা বেগমকে কোপাতে শুরু করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

গুরুতর আহত অবস্থায় আনোয়ারা বেগমকে উদ্ধারের চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার পরপরই মামুন বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। পরে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন।

খবর পেয়ে যশোর কোতোয়ালি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ সেখানে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করে এবং অভিযুক্তকে আটকের চেষ্টা শুরু করে। তবে ঘটনার পর থেকে মামুনের অবস্থান সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ওসি মাসুম খান বলেন, মাকে হত্যার পর মামুন পালিয়ে গেছেন। তাঁকে আটকের চেষ্টা চলছে। প্রাথমিকভাবে পারিবারিক বিরোধের জেরেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে জানা গেছে।

মামুনের মানসিক চিকিৎসার বিষয়টিও পুলিশ ও স্থানীয়দের বক্তব্যে উঠে এসেছে। তবে তাঁর বর্তমান মানসিক অবস্থা, হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এবং ঘটনার সময় ঠিক কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা তদন্তের পর আরও স্পষ্ট হবে।

একই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ শেষ পর্যন্ত এমন প্রাণঘাতী ঘটনায় গড়ানোয় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ অভিযুক্তকে আটক করার পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ও খতিয়ে দেখছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category