• শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৫৩ অপরাহ্ন

পটিয়ায় সাবেক পুলিশ কর্মকর্তাকে পিটিয়ে স্বর্ণ-টাকা লুট

newsline24 / ৮ Time View
Update : শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬
পটিয়ায় সাবেক পুলিশ কর্মকর্তাকে পিটিয়ে স্বর্ণ-টাকা লুট
পটিয়ায় সাবেক পুলিশ কর্মকর্তাকে পিটিয়ে স্বর্ণ-টাকা লুট

চট্টগ্রামের পটিয়ায় গভীর রাতে একটি বাড়িতে ঢুকে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল ভট্টাচার্যকে (৭৮) রড দিয়ে পিটিয়ে কয়েক লাখ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুটের অভিযোগ উঠেছে। মুখোশধারী সাত থেকে আটজনের একটি দল এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। হামলায় গুরুতর আহত বাবুল ভট্টাচার্য পুলিশের সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই)।

বুধবার দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের চক্রশালা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। লুটের শিকার বাড়িটির মালিক প্রবীর ভট্টাচার্য (৬২)। তিনি ওই ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য। ঘটনার সময় তাঁর পরিবারের কেউ বাড়িতে ছিলেন না।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রবীর ভট্টাচার্যের মেয়ের প্রসবের কারণে পরিবারের সদস্যরা চট্টগ্রাম নগরের একটি ক্লিনিকে অবস্থান করছিলেন। এ কারণে রাতে বাড়িটি ফাঁকা ছিল। বাড়িটির পাশেই আলাদা ঘরে থাকেন প্রবীরের চাচা বাবুল ভট্টাচার্য।

রাত ১টার দিকে কয়েকজন মুখোশধারী ব্যক্তি প্রবীর ভট্টাচার্যের বাড়ির দরজার তালা কাটার চেষ্টা করে। বিষয়টি টের পান বাবুল ভট্টাচার্য। তিনি বাইরে এসে উঠোনে কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তিকে দেখতে পান। এরপর দুর্বৃত্তরা তাঁকে ধরে ফেলে।

বাবুল ভট্টাচার্যের ভাষ্য, দুর্বৃত্তরা প্রথমে তাঁকে রশি দিয়ে বেঁধে ফেলে। পরে রড দিয়ে তাঁকে মারধর করে। একপর্যায়ে তিনি গুরুতর আহত হয়ে পড়েন। লুটপাট শেষ করে হামলাকারীরা তাঁকে ছেড়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। তাঁদের প্রত্যেকের মুখে মুখোশ ছিল বলে জানান তিনি।

প্রবীর ভট্টাচার্য বলেন, দুর্বৃত্তরা তাঁর ঘরের আলমারি ভেঙে নগদ প্রায় সাড়ে ৭ লাখ টাকা ও ছয় ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে গেছে। লুট হওয়া টাকার মধ্যে জমি কেনার জন্য দুই দিন আগে ব্যাংক থেকে তোলা চার লাখ টাকাও ছিল। বাকি টাকা আগে থেকেই ঘরে রাখা ছিল।

তবে স্থানীয় সূত্রে স্বর্ণালঙ্কারের পরিমাণ প্রায় পাঁচ ভরি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে লুট হওয়া স্বর্ণের পরিমাণ নিয়ে ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রের বক্তব্যে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। পুলিশের তদন্তে প্রকৃত পরিমাণ নিশ্চিত হতে পারে।

বাড়ির মালিক প্রবীর ভট্টাচার্য বলেন, মেয়ের প্রসবের কারণে পরিবারের সবাই চট্টগ্রাম নগরের একটি ক্লিনিকে ছিলেন। এ সুযোগে দুর্বৃত্তরা রাতে বাড়িতে ঢুকে আলমারি ভেঙে টাকা ও স্বর্ণ নিয়ে যায়। তাঁর চাচা বাবুল ভট্টাচার্যকে বাড়ির পাশে বেঁধে রেখে মারধর করা হয়।

আহত বাবুল ভট্টাচার্য বলেন, ‘উঠোনে কয়েকজনকে দেখি। কিছুক্ষণ পর আমাকে মারধর করা শুরু করে। ডাকাতির পর আমাকে ছেড়ে দেয়। তাদের সবার মুখোশ পরা ছিল।’

ঘটনার খবর পেয়ে পটিয়া থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ বাড়িটি পরিদর্শন করে এবং ঘটনার বিষয়ে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। হামলাকারীদের শনাক্ত করা এবং লুট হওয়া টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধারে কাজ করছে পুলিশ।

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক বলেন, বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে দরজার তালা কেটে চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার এবং ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।

তবে ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তারা আগে থেকে বাড়িটির পরিস্থিতি সম্পর্কে জানত কি না এবং লুটের পর কোন পথে পালিয়েছে—এসব বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ বলছে, তদন্তের মাধ্যমে এসব বিষয় পরিষ্কার হবে।

একদিকে পরিবারের সদস্যদের অনুপস্থিতি, অন্যদিকে বাড়ির পাশের ঘরে থাকা অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তার ওপর হামলা—পুরো ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এখন হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং লুট হওয়া অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধারের দিকেই নজর ভুক্তভোগী পরিবার ও পুলিশের।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category