নিহত জাকির হোসেন জুয়েল পূর্ব নন্দনপুর এলাকার তোফায়েল আহমেদের ছেলে। স্থানীয়দের অভিযোগ, জুয়েল এলাকায় ইয়াবা বিক্রির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদকসংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাত ১১টার দিকে দুর্বৃত্তরা জুয়েলকে গলায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে থাকতে পারে। পরে তাঁর মরদেহ পূর্ব নন্দনপুর গ্রামের ডিপুটি বাড়ি এলাকার একটি সুপারি বাগানে ফেলে রেখে যায়। স্থানীয় লোকজন বাগানে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মাদক ব্যবসা নিয়ে বিরোধকে হত্যার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও ব্যক্তিগত শত্রুতা কিংবা অন্য কোনো বিরোধ ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ওয়াহিদ পারভেজ জানান, কিছুদিন আগে জুয়েল একটি মাদক মামলায় জামিন পেয়েছিলেন। মাদক নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
ওসি আরও জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, কী কারণে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে এবং হত্যার পেছনে মাদকসংক্রান্ত বিরোধের ভূমিকা কতটা—এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের চিহ্নিত করে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানা যেতে পারে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।