সোমবার (২৬ অক্টোবর) ভোর ৪টা ২০ মিনিটের দিকে নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মাহমুদাবাদ এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় সিলেট থেকে ঢাকাগামী এনা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালায় পুলিশ। তল্লাশির একপর্যায়ে বাসের যাত্রী স্বপ্ন আক্তারের কাছে ১৪০ রাউন্ড গুলি পাওয়া যায়। পরে তাকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়।
আটক স্বপ্ন আক্তার ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বাদুঘর এলাকার বাসিন্দা। তিনি মৃত আব্দুস সামাদের স্ত্রী।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুজিবুর রহমান জানান, বাসে তল্লাশির সময় ওই নারীর কাছ থেকে গুলিগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের কাছে দেওয়া বক্তব্যে তিনি জানিয়েছেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাদুঘর এলাকায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে ব্যবহারের জন্য এসব গুলি নিয়ে যাচ্ছিলেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি শুধু অবৈধভাবে গুলি বহনের বিষয় কি না, নাকি এর পেছনে আরও কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে। গুলিগুলো কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে, কীভাবে সেগুলো তার হাতে এসেছে এবং পরিবহনের সঙ্গে অন্য কেউ যুক্ত ছিলেন কি না, এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ওসি মো. মুজিবুর রহমান আরও জানান, আটক নারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। তদন্তে অন্য কারও সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংঘর্ষে আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদের ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ
স্থানীয় পর্যায়ে দুই পক্ষের বিরোধ সংঘর্ষে রূপ নিলে আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদের ব্যবহার পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তুলতে পারে। এ ধরনের ঘটনায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি প্রাণহানি ও গুরুতর আহত হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়। ফলে বিপুল পরিমাণ গুলি বহনের ঘটনায় এর উৎস, গন্তব্য এবং সম্ভাব্য ব্যবহার সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য উদ্ঘাটন গুরুত্বপূর্ণ।
তবে এ ঘটনায় উদ্ধার করা গুলিগুলো কোন ধরনের, সেগুলো ব্যবহারের উপযোগী কি না এবং কথিত সংঘর্ষের সঙ্গে সেগুলোর প্রকৃত সম্পর্ক কী—এসব বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি। তদন্তের ফলাফল সামনে এলে এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যেতে পারে।
এখন পর্যন্ত পুলিশের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, বাসে তল্লাশির সময় ১৪০ রাউন্ড গুলি উদ্ধারের ঘটনায় একজন নারীকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা তদন্তাধীন রয়েছে। আটক নারীর বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।