মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও উপকূলীয় অঞ্চলের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফর ঘিরে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে বন্দরের বিভিন্ন স্থাপনা ও উন্নয়ন কার্যক্রম পরিদর্শন করবেন তিনি। এ সফরের মাধ্যমে মোংলা বন্দর, সুন্দরবনসহ উপকূলীয় এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং যোগাযোগ অবকাঠামো সম্প্রসারণে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম।
প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর সরেজমিন পরিদর্শনে মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হবে। এর মধ্যে রয়েছে চীনা বিনিয়োগ, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, মোংলা নদীর ওপর সেতু নির্মাণ এবং সড়ক যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বন্দরকেন্দ্রিক বাণিজ্যিক কার্যক্রম সম্প্রসারণের পাশাপাশি উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সফরকালে প্রধানমন্ত্রী মোংলা বন্দরের জেটি ও চ্যানেল পরিদর্শন করবেন। এ ছাড়া সুন্দরবন ও হিরণ পয়েন্টে যাওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। আকরাম পয়েন্টে প্রস্তাবিত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) স্থাপনার জন্য নির্ধারিত স্থান এবং চীনা বিনিয়োগভিত্তিক বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলও পরিদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, মোংলা বন্দরের উন্নয়নের পাশাপাশি উপকূলীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও পর্যটনসম্পদের বিষয়গুলো প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনা হবে। এ প্রসঙ্গে ফয়লায় খানজাহান আলী বিমানবন্দরের বিষয়টিও তুলে ধরা হবে। ১৯৯৬ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিমানবন্দরটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন বলে জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রীর আশা, প্রধানমন্ত্রীর এ সফরের মধ্য দিয়ে মোংলা বন্দর, সুন্দরবন ও আশপাশের এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা নতুন গতি পাবে। বিশেষ করে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন এবং বিনিয়োগের সম্ভাবনা কাজে লাগানো গেলে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের সুযোগ বাড়বে।
এদিকে মোংলা বন্দর বার্থ ও শিপ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. জুলফিকার আলী জানান, প্রধানমন্ত্রী চীনের সঙ্গে চুক্তি হওয়া নতুন জেটি নির্মাণের স্থান পরিদর্শন করবেন। তিনি বন্দরের চ্যানেলে যথাযথভাবে খননকাজ পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
জুলফিকার আলীর মতে, চ্যানেলের নাব্যতা বাড়ানো মোংলা বন্দরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত ও প্রয়োজনীয় খননকাজ নিশ্চিত করা গেলে বড় জাহাজের প্রবেশের সুযোগ বাড়বে, যা বন্দরের কার্যক্রম সম্প্রসারণে সহায়ক হতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর সফরে এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে বলে আশা করছেন বন্দরসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।