ভিডিওতে দেখা যায়, সমুদ্রসৈকতের তীর ধরে হাঁটছেন এক নারী ও এক পুরুষ। তাঁদের হাতে মোবাইল ফোন বা সেলফি স্টিক রয়েছে। দুজনই নিজেদের ভিডিও ধারণে ব্যস্ত। এ সময় নারীকে একটি শিশুর হাত ধরে পানির কাছ দিয়ে হাঁটতে দেখা যায়। কিছুক্ষণ পর শিশুটি পিছলে বালুর ওপর পড়ে যায়। এরপর সমুদ্রের ঢেউ এসে তাকে এদিক-সেদিক ঠেলে দিতে থাকে।
ভিডিওর একপর্যায়ে নারীকে পেছনে ফিরে তাকাতে দেখা গেলেও পরে তিনি আবার ক্যামেরার সামনে পোজ দিতে থাকেন। অন্যদিকে পুরুষটি ভিডিও ধারণ চালিয়ে যান। এ সময় শিশুটি ঢেউয়ের মধ্যে ছটফট করছিল। ভিডিও দেখে ধারণা করা হচ্ছে, রিল তৈরিতে মনোযোগী থাকায় তাঁরা শিশুটির বিপদের বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে বুঝতে পারেননি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মারিয়াম নামের এক ব্যবহারকারী ভিডিওটি শেয়ার করেন। তাঁর দাবি, স্বামীর সঙ্গে সমুদ্রসৈকতে বেড়াতে গিয়ে তিনি ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেছেন। মারিয়ামের অভিযোগ, দম্পতি রিল তৈরিতে এতটাই মগ্ন ছিলেন যে, তাঁদের সন্তান বিপদে পড়লেও বিষয়টি বুঝতে পারেননি। পরে এক পথচারী এগিয়ে এসে শিশুটিকে পানি থেকে উদ্ধার করেন। ওই ব্যক্তি সময়মতো এগিয়ে না এলে শিশুটি আরও বড় বিপদের মুখে পড়তে পারত বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই শিশুটির নিরাপত্তার চেয়ে ভিডিও তৈরিকে গুরুত্ব দেওয়ার অভিযোগ তুলে দম্পতির সমালোচনা করেন। তাঁদের মতে, শিশুদের নিয়ে সমুদ্রসৈকতে গেলে অভিভাবকদের সব সময় সতর্ক থাকা জরুরি। বিশেষ করে ঢেউয়ের কাছে শিশুদের নিয়ে হাঁটার সময় এক মুহূর্তের অসতর্কতাও বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
এক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, কোনো রিল বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মুহূর্তই একটি শিশুর জীবন ঝুঁকিতে ফেলার মতো মূল্যবান নয়। আরেকজন লেখেন, একটি রিল কয়েক মিনিটের জন্য হলেও শিশুর জীবনের ঝুঁকি কখনোই তুচ্ছ করে দেখার সুযোগ নেই। পথচারী সময়মতো এগিয়ে এসেছিলেন বলেই শিশুটি রক্ষা পেয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তবে ভিডিওটি নিয়ে ভিন্নমতও রয়েছে। কেউ কেউ দাবি করেছেন, এটি ভুয়া হতে পারে কিংবা বেশি ভিউ পাওয়ার উদ্দেশ্যে সাজানো হয়ে থাকতে পারে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, ভিডিওটির সত্যতা ও ঘটনার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি তারা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। ঘটনাটি কোথায় এবং কবে ঘটেছে, তা-ও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট দম্পতির পরিচয়ও প্রকাশ করা হয়নি।
ঘটনাটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট তৈরির প্রবণতা এবং জনসমাগমপূর্ণ স্থানে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতামত হিসেবে কোনো বক্তব্য পাওয়া না গেলেও সাধারণ নিরাপত্তার দৃষ্টিতে, সমুদ্রের মতো ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে শিশুদের সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা জরুরি। ছবি বা ভিডিও ধারণের সময়ও শিশুর অবস্থান ও নিরাপত্তার দিকে মনোযোগ রাখা অভিভাবকদের দায়িত্ব।