• বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
পূজামণ্ডপে পুলিশের পোশাকে গান, সিলেটে এএসআই প্রত্যাহার মিরপুরে প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ, ছাত্রলীগ নেতা তানভীর আটক বিএনপি-আওয়ামী লীগ সমঝোতার অভিযোগ, তারেক রহমানকে নিশানা সাদিকের সব ধর্মের সমান নাগরিক সুবিধায় জাতীয় কমিটি গঠনের আহ্বান রাষ্ট্রপতির মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির পূর্ণাঙ্গ পাঠ প্রকাশ, হামলা হলে পাশে থাকবে ৩ দেশ ময়নাতদন্তে মিলল প্রমাণ, গুলিতেই প্রাণ হারান যুবদল নেতা সাকের রিল বানাতে মগ্ন দম্পতি, ঢেউয়ে পড়ে বিপদে শিশু যুব উন্নয়নের প্রশ্নফাঁস: বিএআরসির সহকারী পরিচালক গ্রেপ্তার প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় বিএনপির ৯ নেতাকর্মীর মোবাইল হারিয়ে গেছে রাজশাহীর লিচুবাগানে বস্তাভর্তি ১০৩টি তাজা ককটেল উদ্ধার

সাত বছরে সড়কে ঝরেছে ৭,৯৬৩ শিশুর প্রাণ, ঝুঁকিতে পথচারীরা

newsline24 / ১৯ Time View
Update : বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬
সাত বছরে সড়কে ঝরেছে ৭,৯৬৩ শিশুর প্রাণ, ঝুঁকিতে পথচারীরা
সাত বছরে সড়কে ঝরেছে ৭,৯৬৩ শিশুর প্রাণ, ঝুঁকিতে পথচারীরা

দেশে ২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ৯৬৩ শিশু নিহত হয়েছে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২ হাজার ৯৫৮ জন মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহী হিসেবে প্রাণ হারিয়েছে। এ ছাড়া পথচারী হিসেবে ২ হাজার ৮১২ এবং বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রী হিসেবে ২ হাজার ১৯৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শিশুদের সড়ক নিরাপত্তার উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের এক প্রতিবেদনে।

বুধবার প্রকাশিত প্রতিবেদনটি তৈরি করতে সংস্থাটি ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক নিউজ পোর্টাল, ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম এবং নিজস্ব তথ্য বিশ্লেষণ করেছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, নিহত শিশুদের ৩৫ দশমিক ৩১ শতাংশই পথচারী। এদের মধ্যে থ্রি-হুইলারের ধাক্কায় প্রাণ গেছে ১ হাজার ২৭১ শিশুর। বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও পিকআপের মতো ভারী যানবাহনের চাপায় বা ধাক্কায় নিহত হয়েছে ১ হাজার ১২৬ শিশু। এ ছাড়া প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, অ্যাম্বুলেন্স ও জিপের ধাক্কায় ৩১৭ এবং মোটরসাইকেলের ধাক্কায় ৯৮ শিশু মারা গেছে।

গ্রামীণ সড়কে বেশি মৃত্যু

সড়কের ধরন অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ২ হাজার ৭১৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে গ্রামীণ সড়কে, যা মোট মৃত্যুর ৩৪ দশমিক ০৭ শতাংশ। আঞ্চলিক সড়কে প্রাণ গেছে ২ হাজার ৮২, মহাসড়কে ১ হাজার ৯৭৪ এবং শহরের সড়কে ১ হাজার ১৯৪ শিশুর।

সময়ভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিকেলে সবচেয়ে বেশি ২ হাজার ৬৩৪ শিশু নিহত হয়েছে। সকালে মারা গেছে ২ হাজার ১৬৮ এবং দুপুরে ১ হাজার ৮১৩ শিশু। রাতে ৫৯৮, সন্ধ্যায় ৫৪৬ ও ভোরে ২০৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

বয়সের হিসাবে, ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুরাই সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। এ বয়সের ৩ হাজার ৫৪৭ জন নিহত হয়েছে, যা মোট মৃত্যুর ৪৪ দশমিক ৫৪ শতাংশ। ৬ থেকে ১২ বছর বয়সী ২ হাজার ৮৮৪ এবং শূন্য থেকে ৫ বছর বয়সী ১ হাজার ৫৩২ শিশুর প্রাণ গেছে সড়কে।

শিক্ষাপথ ও বাড়ির আশপাশেও ঝুঁকি

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়া-আসার পথে ২ হাজার ৫১৩ শিশু নিহত হয়েছে। আর বাড়ির আশপাশের সড়কে খেলাধুলার সময় প্রাণ হারিয়েছে ৯৬২ শিশু। এসব তথ্য শিশুদের দৈনন্দিন চলাচলের পথেও নিরাপত্তাঝুঁকি থাকার বিষয়টি সামনে এনেছে।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের মতে, সড়ক ও পরিবহনব্যবস্থা শিশুবান্ধব না হওয়া, নিরাপদে সড়ক ব্যবহারের বিষয়ে সচেতনতার অভাব এবং পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রশিক্ষণের ঘাটতি শিশু মৃত্যুর অন্যতম কারণ। পাশাপাশি অদক্ষ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের যানবাহন চালানো এবং দুর্ঘটনায় আহত শিশুদের যথাযথ চিকিৎসা না পাওয়াও মৃত্যুর হার বাড়াচ্ছে।

সংস্থাটি বলছে, গ্রামীণ সড়কে বসতবাড়ির কাছাকাছি যানবাহন চলাচল করলেও অনেক ক্ষেত্রে ট্রাফিক নিয়ম মানা হয় না। এসব এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিও সীমিত। ফলে শিশুদের ঝুঁকি আরও বাড়ে।

শিশুদের সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সড়ক ও পরিবহনব্যবস্থা নিরাপদ করার পাশাপাশি পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতা বাড়ানোর সুপারিশ করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। অদক্ষ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া, জেলা পর্যায়ের হাসপাতালে দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণ এবং চিকিৎসার জন্য বিশেষ সরকারি তহবিল গঠনেরও আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে তারা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category