অপরাধ দমনে পুলিশকে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানোর নির্দেশ দেওয়া হবে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ২০০২ সালে পরিচালিত অপারেশন ক্লিন হার্টের মতো কোনো অভিযান চালানোর পরিকল্পনা সরকারের নেই। তবে অপরাধী গ্রেপ্তারে বাধা দেওয়া কিংবা আসামিকে পালাতে সহায়তা করার অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) চট্টগ্রাম পুলিশ লাইন্সে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সাইবার কার্যালয় ও ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ সর্বাত্মক চেষ্টা চালাবে। এ ক্ষেত্রে কেউ বাধা সৃষ্টি করলে বা অপরাধীদের আশ্রয়-সহায়তা দিলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ ধরনের ঘটনার বিষয়ে তথ্য পেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি।
সাইবার অপরাধের ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমানে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে নানা ধরনের অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। অনলাইন প্রতারণার পাশাপাশি শেয়ারবাজারে কারসাজির মতো ঘটনাও সাইবার স্পেসের মাধ্যমে ঘটতে পারে। এসব অপরাধ শনাক্ত, তদন্ত ও প্রতিরোধে আধুনিক ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবের বিকল্প নেই।
তিনি জানান, গত ১ অক্টোবর থেকে একজন অতিরিক্ত মহাপরিদর্শকের (অতিরিক্ত আইজিপি) নেতৃত্বে আনুষ্ঠানিকভাবে পুলিশ সাইবার ইউনিটের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় এই ইউনিটের কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের আটটি বিভাগীয় সদর দপ্তরে দ্রুত ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যন্ত ডিজিটাল অপরাধ বিশ্লেষণের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে এসব ল্যাবের সুবিধা সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
চট্টগ্রামে উদ্বোধন করা সিআইডির সাইবার কার্যালয় ও ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব প্রতিষ্ঠায় দক্ষিণ কোরিয়া সরকার এবং কোরিয়ান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (কয়কা) সহযোগিতা করেছে। নতুন এই সুবিধার মাধ্যমে ডিজিটাল অপরাধের তদন্ত ও তথ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণে পুলিশের সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, বিচারপ্রক্রিয়ায় মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ দ্রুত করতে বিভিন্ন ধরনের বিশ্লেষণ ও নির্ভরযোগ্য সাক্ষ্য-প্রমাণ প্রয়োজন হয়। এসব প্রমাণের যথাযথ পরীক্ষা এবং সত্যতা যাচাইও গুরুত্বপূর্ণ। অপরাধের ধরন পরিবর্তিত হওয়ায় তদন্তের পদ্ধতি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতাও সময়ের সঙ্গে আধুনিক করতে হবে।
নতুন ল্যাবের কার্যক্রম সিআইডির নেতৃত্বে পরিচালিত হলেও ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষা ও বিশ্লেষণে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর মধ্যে সমন্বয় থাকবে বলে জানান তিনি।
পুলিশের ওপর অপরাধীদের হামলার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপরাধ দমনে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পুলিশ সদস্যদের হামলার শিকার হওয়া নতুন ঘটনা নয়। তবে এসব কারণে অপরাধ দমনের কার্যক্রম থেমে থাকবে না। অপরাধীদের গ্রেপ্তারে বাধা দেওয়া কিংবা তাদের আশ্রয় ও সহায়তা করার বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, অপারেশন ক্লিন হার্ট ছিল ২০০২ সালের ১৬ অক্টোবর শুরু হওয়া একটি যৌথ অভিযান, যা ২০০৩ সালের ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত চলে। এতে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর), পুলিশ ও আনসার সদস্যরা অংশ নেন। অভিযানে ৫০ হাজারের বেশি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত ছিলেন এবং যৌথ বাহিনী ১১ হাজার ২৪৫ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছিল।