• বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
হাসিনার দুপুরের খাবারে সাড়ে ১০ লাখ, তারেকের খরচ ১৫০ টাকা: চিফ হুইপ অপরাধ দমনে কঠোর সরকার, তবে ক্লিন হার্টের পথে নয় আসামি গ্রেপ্তারে বাধা দিলে ছাড় নয়, আইনি পদক্ষেপ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টঙ্গীতে ওষুধ কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে, কাজ করছে ২১ ইউনিট আইভীর জামিনের দিন আদালত প্রাঙ্গণে স্লোগান, গ্রেপ্তার ৩ ডিজিটাল অপরাধ ঠেকাতে আধুনিক প্রযুক্তিতে জোর দিচ্ছে সরকার চুরির সন্দেহে প্রতিবন্ধী যুবককে পিটিয়ে হত্যা, আটক ৪ ২৪ বছরে ১১৩ অসহায় কন্যার বিয়ে দিলেন ব্যবসায়ী রুহুল আমিন রাশিয়ায় চাকরির ফাঁদে পড়ে যুদ্ধে ২০ বাংলাদেশির মৃত্যু নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে মোবাইল ল্যাব পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী, ৬৪ জেলায় সম্প্রসারণের পরিকল্পনা

হাসিনার দুপুরের খাবারে সাড়ে ১০ লাখ, তারেকের খরচ ১৫০ টাকা: চিফ হুইপ

newsline24 / ২১ Time View
Update : বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬
হাসিনার দুপুরের খাবারে সাড়ে ১০ লাখ, তারেকের খরচ ১৫০ টাকা চিফ হুইপ
হাসিনার দুপুরের খাবারে সাড়ে ১০ লাখ, তারেকের খরচ ১৫০ টাকা চিফ হুইপ

শেখ হাসিনার দাপ্তরিক কার্যালয়ে দুপুরের খাবারের পেছনে প্রতিদিন সাড়ে ১০ লাখ টাকা ব্যয় হতো বলে দাবি করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম মণি। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দুপুরের খাবারের খরচ ১৫০ টাকা বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে বরগুনা সফরে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন চিফ হুইপ।

বরগুনার সার্কিট হাউসের সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নূরুল ইসলাম মণি বলেন, শেখ হাসিনার কার্যালয়ে প্রতিদিন দুপুরের খাবারের জন্য সাড়ে ১০ লাখ টাকা ব্যয় করা হতো। তাঁর দাবি অনুযায়ী, এই হিসাবে বছরে ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৩৫ কোটি টাকা। বিপরীতে তারেক রহমানের সাধারণ জীবনযাপনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছেন, দেশের একটি পয়সাও তাঁর হাত দিয়ে নষ্ট হবে না।

তারেক রহমানের জীবনযাপন সম্পর্কে নিজের অভিজ্ঞতার কথাও জানান চিফ হুইপ। তিনি বলেন, কিছুদিন আগে তারেক রহমানের সঙ্গে দুপুরের খাবার খেয়েছেন। সেদিনের খাবারের তালিকায় ছিল ডাল, কুমড়ার ভর্তা ও ডিম ভাজি। তাঁর মতে, সাধারণ জীবনযাপন ও ব্যক্তিগত সততাই একজন রাজনৈতিক নেতার গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। বাংলাদেশের জন্য তারেক রহমানের মতো একজন প্রধানমন্ত্রী পাওয়া সৌভাগ্যের বিষয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে তারেক রহমানের দেওয়া নির্দেশনার প্রসঙ্গ টেনে নূরুল ইসলাম মণি বলেন, সংসদ সদস্যদের কর্মীবান্ধব হতে হবে এবং যাঁরা দীর্ঘদিন রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে পাশে ছিলেন, তাঁদের খোঁজখবর রাখতে হবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তারেক রহমান স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও সন্ত্রাসের কোনো সুযোগ নেই। এসব কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির প্রসঙ্গেও কথা বলেন চিফ হুইপ। তিনি বলেন, শুধু বহিষ্কারই শেষ কথা নয়; এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়াটাই গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এ ক্ষেত্রে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে নূরুল ইসলাম মণি বলেন, দলীয় প্রতীকের পরিবর্তে জনপ্রিয় ব্যক্তিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে। ধানের শীষ, নৌকা কিংবা অন্য কোনো দলীয় প্রতীক থাকবে না বলে জানান তিনি। তাঁর মতে, প্রতীককেন্দ্রিক বিভাজন অনেক সময় সামাজিক সম্পর্কের অবনতি ঘটায়। তাই জনপ্রিয় ও যোগ্য প্রার্থীরা যেন দলীয় পরিচয়ের বাইরে থেকেও নির্বাচিত হতে পারেন, সেই পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন।

দেশের অতীত ও বর্তমান রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন চিফ হুইপ। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসার আগে দেশে খাদ্যসংকটের ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখেছেন। তাঁর দাবি, জিয়াউর রহমানের শাসনামলে তিন বছরের মধ্যে খাদ্যসংকট দূর হয়েছিল এবং বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পাশাপাশি সেনেগালে খাদ্য ও চাল রপ্তানি করেছিল।

গত ১৭ বছরে দেশের অর্থনীতি, সমাজনীতি ও গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন নূরুল ইসলাম মণি। তাঁর ভাষ্য, কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেই তারেক রহমান দায়িত্ব নিয়ে দেশ পরিচালনা করছেন এবং গণতন্ত্রের উন্নয়নে কাজ করার চেষ্টা করছেন।

উল্লেখ্য, শেখ হাসিনার কার্যালয়ের খাবারের ব্যয়, তারেক রহমানের ব্যক্তিগত খাবারের খরচ এবং অতীতের খাদ্যসংকট নিয়ে করা বক্তব্যগুলো চিফ হুইপের দাবি ও মূল্যায়ন হিসেবে এসেছে। এসব বিষয়ে বক্তব্যে কোনো স্বতন্ত্র নথি বা ব্যয়ের হিসাব উপস্থাপন করা হয়নি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category