রাজধানীর ফার্মগেটের তেজগাঁও কলেজ জামে মসজিদে গোপন বৈঠক ও উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার ১২ জনের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. আখতার মোর্শেদ প্রত্যেক আসামির সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুল হক দিদার আদালতকে বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির পরিকল্পনা করছিলেন এবং জিহাদের জন্য লোক সংগ্রহের চেষ্টা করছিলেন বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের সঙ্গে আরও কারা যুক্ত, কী ধরনের পরিকল্পনা ছিল এবং এর পেছনে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না—এসব বিষয়ে তথ্য পেতে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে তিনি জানান।
তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী মাসদ-উর রহমান রিমান্ডের বিরোধিতা করেন এবং আদালতের কাছে তাদের জামিনের আবেদন জানান।
রিমান্ড আবেদনে পুলিশ জানায়, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সিটিটিসি জানতে পারে, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট, উগ্রবাদ ছড়ানো এবং বড় ধরনের সহিংস ঘটনা ঘটানোর উদ্দেশ্যে কয়েকজন যুবক রাজধানীর তেজগাঁওয়ের কোকাকোলা মোড় এলাকায় একত্রিত হয়েছেন। পরে ১৮ সেপ্টেম্বর তেজগাঁও ও শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশের সহায়তায় সেখানে অভিযান চালিয়ে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্ত সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ‘মিটআপ’ নামে একটি গোপন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সদস্য ছিলেন। ওই গ্রুপে তারা উগ্রবাদী বক্তব্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করতেন। নাশকতার উদ্দেশ্যেই তারা একত্রিত হয়েছিলেন কি না, সে বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মো. শিহাব উদ্দিন (৩২), মারজুক আহমেদ (২৬), সাইফুর রহমান খান (৩২), মো. রাস্মি মিয়া (২৯), মো. কামিছুল ইসলাম (৩৬), মো. সাজ্জাদ হোসেন (২২), আফিফ আহমেদ (২০), মো. মোহাইমিনুল হক (২৭), জাওজি চৌধুরী (১৯), শাহাদাত হোসেন (২৫), সাকিব আহমেদ (২৬) ও জুনায়েদ আহমেদ (২১)।
সিটিটিসির তথ্য অনুযায়ী, শিহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে এর আগে উগ্রবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে মামলা রয়েছে। নরসিংদীর পলাশ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা ওই মামলা বর্তমানে বিচারাধীন। অন্যদিকে মারজুক আহমেদের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে তদন্ত সংস্থা।
রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ঘটনার পেছনের মূল বিষয়গুলো উদঘাটনের জন্য গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, সিমকার্ড ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস বা আলামত উদ্ধারের পাশাপাশি সেগুলো থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করার প্রয়োজন রয়েছে।
এ ছাড়া হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক, টেলিগ্রাম ও মেসেঞ্জারসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের কথোপকথন এবং যোগাযোগের ধরন যাচাই করতে চায় তদন্ত সংস্থা। এসব যোগাযোগের সূত্র ধরে সম্ভাব্য পরিকল্পনাকারী ও সহযোগীদের শনাক্ত করার পাশাপাশি কথিত উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডে অর্থের উৎস ও অর্থদাতাদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের কথাও রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আদালতের তিন দিনের রিমান্ডের মধ্যেই এসব বিষয়ে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তের অগ্রগতি যাচাই করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তবে মামলার অভিযোগ ও তদন্তে উঠে আসা তথ্যের চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারিত হবে তদন্ত ও পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।