• সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৮ অপরাহ্ন

হামের উপসর্গে আরও তিন মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা ৯৬৩

newsline24 / ৪৬ Time View
Update : শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬
হামের উপসর্গে আরও তিন মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা ৯৬৩
হামের উপসর্গে আরও তিন মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা ৯৬৩

দেশে হামের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হওয়া কোনো রোগীর মৃত্যু হয়নি। ফলে চলতি বছরে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৬৩ জনে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া এক বার্তায় এসব তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ৮৬৪ জন। সব মিলিয়ে নিশ্চিত হাম ও উপসর্গ—দুই হিসাব মিলিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ৯৬৩।

গত ২৪ ঘণ্টায় যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের মধ্যে দুজন ঢাকা বিভাগের এবং একজন খুলনা বিভাগের বাসিন্দা। তবে তাঁদের বয়স, পরিচয় বা নির্দিষ্ট কোন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওই বার্তায় বিস্তারিত জানানো হয়নি।

মৃত্যুর পাশাপাশি নতুন করে হাম শনাক্তের সংখ্যাও বেড়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫৭ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে দেশে নিশ্চিত হামে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৮৫৩ জনে।

একই সময়ে ৮৮৬ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। ফলে চলতি বছরে হামের উপসর্গসহ মোট সন্দেহভাজন আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৬৭৮ জন।

হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যাও পরিস্থিতির ব্যাপকতা বোঝাচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে শনিবার পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৩৬ হাজার ২৫৭ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে ১ লাখ ৩১ হাজার ২৬৪ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

অর্থাৎ হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের বড় একটি অংশ ইতোমধ্যে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন। তবে বিপুলসংখ্যক মানুষের হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এবং নতুন করে প্রতিদিন রোগী শনাক্ত হওয়ার ঘটনা জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি করছে।

হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। সাধারণত জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া ও চোখ লাল হওয়ার মতো উপসর্গের পর শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দিতে পারে। শিশুদের মধ্যে রোগটির বিস্তারের ঝুঁকি বেশি থাকলেও টিকা না নেওয়া বা রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম থাকা ব্যক্তিরাও আক্রান্ত হতে পারেন।

তবে হামের উপসর্গ থাকলেই যে রোগী নিশ্চিতভাবে হাম আক্রান্ত—তা নয়। এ কারণেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবের মধ্যে নিশ্চিত হাম শনাক্ত রোগী এবং হামের উপসর্গ থাকা সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা আলাদাভাবে উল্লেখ করা হচ্ছে। একইভাবে মৃত্যুর হিসাবেও নিশ্চিত হাম ও উপসর্গজনিত মৃত্যুকে পৃথক করে দেখানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরে হামের সংক্রমণ ও উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে রয়েছে। নতুন রোগী শনাক্ত এবং উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও রোগীদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনার গুরুত্বও বাড়ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category