সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। কোভিড-১৯ মহামারির সময় স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী, হাসপাতালের সরঞ্জাম ও বিভিন্ন সেবা কেনাকাটায় অনিয়ম এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) এসব মামলা করা হয়।
দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, মহামারির জরুরি পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে নিম্নমানের মাস্ক, পিপিই ও অন্যান্য স্বাস্থ্য সরঞ্জাম কেনা এবং সরবরাহের ক্ষেত্রে অনিয়ম করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সেবা ক্রয়ের ক্ষেত্রেও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এসব অনিয়মের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাত করা হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
এর আগে এ ঘটনায় দুদকের অনুসন্ধানে জাহিদ মালেকসহ মোট ১৩ জনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। সংস্থাটির অনুসন্ধানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কোভিড-১৯–সংক্রান্ত একটি প্রকল্পের কেনাকাটায় অনিয়মের তথ্য উঠে আসে। ওই অনুসন্ধানের ভিত্তিতেই পৃথক ছয়টি মামলার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হয়।
মার্চ ২০২৬-এ প্রকাশিত অনুসন্ধান-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ‘কোভিড-১৯ ইমার্জেন্সি রেসপন্স অ্যান্ড প্যান্ডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস’ (ইআরপিপি) প্রকল্পের বিভিন্ন কেনাকাটায় প্রায় ১২ কোটি ৩ লাখ ২৮ হাজার টাকা আত্মসাতের তথ্য পেয়েছে দুদকের অনুসন্ধান দল।
ওই অনুসন্ধানে ভুয়া বিল তৈরি, অতিরিক্ত মূল্য পরিশোধ এবং কাজ সম্পন্ন না করেই অর্থ উত্তোলনের মতো অভিযোগের কথাও উঠে আসে। বিভিন্ন ক্রয় প্যাকেজে মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস ও হাসপাতালের সরঞ্জাম কেনার ক্ষেত্রে আর্থিক অনিয়মের তথ্য অনুসন্ধান প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল।
দুদকের অনুসন্ধান অনুযায়ী, এসব অভিযোগের সঙ্গে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রীসহ স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারীদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। তবে মামলায় অভিযোগ আনা মানেই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া নয়; তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে।
কোভিড-১৯ মহামারির সময় স্বাস্থ্য খাতে দ্রুততার সঙ্গে বিপুল পরিমাণ সুরক্ষা সামগ্রী ও চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনা হয়েছিল। সেই সময়ের বিভিন্ন ক্রয় নিয়ে পরে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে এবং একাধিক ঘটনায় দুদক অনুসন্ধান শুরু করে। জাহিদ মালেকসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে করা ছয় মামলাও সেই অনুসন্ধানের ধারাবাহিকতার অংশ।