• সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৩৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম:

বোয়ালখালীতে হ্যান্ডকাফসহ পালানো আসামি ফের গ্রেপ্তার

newsline24 / ৫ Time View
Update : সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬
বোয়ালখালীতে হ্যান্ডকাফসহ পালানো আসামি ফের গ্রেপ্তার
বোয়ালখালীতে হ্যান্ডকাফসহ পালানো আসামি ফের গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায় গ্রেপ্তারের পর পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করে হ্যান্ডকাফসহ পালিয়ে যাওয়া এক পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে আবারও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্য, মামলার বাদীসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। একই ঘটনায় আসামির এক আত্মীয়, যিনি গ্রাম পুলিশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, তাকেও আটক করা হয়েছে।

রোববার (৩০ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে উপজেলার চরণদ্বীপ ইউনিয়নের মসজিদঘাটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ মহিউদ্দিন (২৮)। তিনি উত্তর করলডেঙ্গা শিকদার বাড়ি এলাকার বাসিন্দা।

আহত তিন পুলিশ সদস্য হলেন এসআই আবদুল হালিম (৪৮), এএসআই মাসুম বিল্লাহ (৩৫) ও কনস্টেবল হাসানুজ্জামান (৩২)। এ ছাড়া মামলার বাদী আবদুল মান্নান (৫৫) এবং মোক্তার হোসেন (৪০) আহত হয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে আবদুল মান্নান আদালতে একটি নালিশি মামলা করেন। ওই মামলায় আদালত মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। পরোয়ানার ভিত্তিতে রোববার রাতে বোয়ালখালী থানার একটি দল তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালায়। মামলার বাদী আবদুল মান্নানও পুলিশের সঙ্গে ওই অভিযানে ছিলেন।

অভিযানের একপর্যায়ে পুলিশ মহিউদ্দিনকে আটক করে তাঁর হাতে হ্যান্ডকাফ পরায়। এরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মহিউদ্দিন পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু করেন এবং একপর্যায়ে তাঁদের ওপর হামলা চালান। পরে হ্যান্ডকাফ পরা অবস্থাতেই তিনি সেখান থেকে পালিয়ে যান।

হঠাৎ আসামি পালিয়ে যাওয়ার পর তাকে ধরতে এলাকায় অভিযান শুরু করে পুলিশ। একপর্যায়ে সাঁড়াশি অভিযানের মাধ্যমে মহিউদ্দিনকে আবারও আটক করা হয়। পরে তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর হোসেন বলেন, আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গেলে তিনি পুলিশ সদস্যদের হাতে আঁচড় ও কামড় দেন। এ ঘটনায় মহিউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, ঘটনার সঙ্গে মহিউদ্দিনের এক আত্মীয় জেবল হোসাইনের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও সামনে এসেছে। জেবল হোসাইন গ্রাম পুলিশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাকে পুলিশ আটক করেছে।

ওসি মোজাফফর হোসেন জানান, জেবল হোসাইন মূল মামলার আসামি নন। তবে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনার পর আহত পুলিশ সদস্য ও অন্যদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। একই রাতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করতে গিয়ে একজন আসামির হ্যান্ডকাফসহ পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা এবং পরে তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা নিয়ে এলাকায় আলোচনা তৈরি হয়েছে। পুলিশের ওপর হামলা ও পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় নতুন করে কী ধরনের মামলা বা আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category