শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে জামালপুর-মেলান্দহ সড়কের বৈঠামারী বুরুঙ্গা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত একই পরিবারের তিন সদস্য হলেন ইসলামপুর উপজেলার ইন্দুল্লামারী এলাকার বাসিন্দা মোরশেদ আলম (২৫), তাঁর স্ত্রী ইকরামা (২৩) এবং তাঁদের আট মাস বয়সী মেয়ে রিফা। দুর্ঘটনায় নিহত অপর ব্যক্তি হলেন শওকত হাসান লিখন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে একটি অটোরিকশা যাত্রী নিয়ে মেলান্দহ থেকে জামালপুরের দিকে যাচ্ছিল। পথে বৈঠামারী বুরুঙ্গা এলাকায় পৌঁছালে পেছন দিক থেকে আসা একটি ট্রাক অটোরিকশাটিকে সজোরে চাপা দেয়। ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায়। একই সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেলও ট্রাকটির চাপায় পড়ে।
ভয়াবহ এ সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের দ্রুত উদ্ধার করে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শওকত হাসান লিখনের মৃত্যু হয়। আহত অন্যদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে পুলিশ পৌঁছে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করে। দুর্ঘটনার পর সড়কে যান চলাচলেও বিঘ্ন সৃষ্টি হয় বলে জানা গেছে।
মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম মাহমুদুল হক জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে। দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রাকটি আটক করা হয়েছে।
একই পরিবারের তিন সদস্যের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে স্বজনদের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মাত্র আট মাস বয়সী শিশুটির মৃত্যুর খবর স্থানীয়দেরও ব্যথিত করেছে।
সড়ক দুর্ঘটনার এমন ঘটনা আবারও যানবাহন চলাচলে সতর্কতা, নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে। তবে এই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।