সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে দাওয়াতের কথা বলে নিজ বাড়িতে নিয়ে ১৬ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে এক ইমামের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার বটেরতল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী। ঘটনার পর বিষয়টি জানাজানি হলে অভিযুক্ত ইমাম হাফেজ মুফতি নোমান বিন রব্বানী আত্মগোপনে চলে গেছেন বলে জানা গেছে।
অভিযুক্ত নোমান বিন রব্বানীর বয়স ৩৫ বছর। তিনি বটেরতল গ্রামের গোলাম রব্বানীর ছেলে। স্থানীয় শহীদ স্মৃতি টুকেরবাজার উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ জামে মসজিদের ইমাম হওয়ার পাশাপাশি তিনি দারুল আরক্বাম ইবতেদায়ি মাদ্রাসা, কোম্পানীগঞ্জের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া উপজেলা শানে সাহাবা জাতীয় খতিব ফাউন্ডেশনের সভাপতি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের উপজেলা সেক্রেটারি এবং হেফাজতে ইসলামের উপজেলা শাখার সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্বে রয়েছেন তিনি।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর অভিযোগ, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মসজিদে গেলে অভিযুক্ত ইমাম তাকে মাথাব্যথার কথা বলে মাথা টিপে দিতে বলেন। এরপর তাকে এশার নামাজ পড়ানোর দায়িত্ব দেন। নামাজ শেষে ইমাম তাকে বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের জানাতে বলেন, সেদিন রাতে তার সঙ্গে দাওয়াত রয়েছে এবং তাকে ইমামের বাড়িতে থাকতে হবে।
শিক্ষার্থীর ভাষ্য, দাওয়াত খেয়ে রাতে তিনি ইমামের বাড়িতে যান। সেখানে একটি কক্ষে ইমামের সঙ্গে তিনি ঘুমান এবং অন্য কক্ষে ছিলেন ইমামের স্ত্রী। রাতের একপর্যায়ে ইমাম পেটে ব্যথার কথা বলে তাকে মালিশ করে দিতে বলেন। তিনি মালিশ করতে গেলে ইমাম তার ওপর যৌন নির্যাতন চালান বলে অভিযোগ করেন ওই শিক্ষার্থী।
ভুক্তভোগীর আরও অভিযোগ, ঘটনার কথা কাউকে জানালে তাকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেন অভিযুক্ত ইমাম। পরদিন ফজরের সময় মোটরসাইকেলে করে তাকে বাড়ি থেকে মসজিদে নিয়ে যান তিনি। এরপর গোসল না করেই ফজরের নামাজ পড়ান। নামাজ শেষে আবারও ওই শিক্ষার্থীকে দিয়ে নিজের পা টেপান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে বাড়িতে ফিরে মায়ের কাছে পুরো ঘটনা খুলে বলে ওই শিক্ষার্থী। ছেলের কাছ থেকে এমন অভিযোগ শোনার পর কান্নায় ভেঙে পড়েন তার মা। তিনি বলেন, ‘আজ আমার ছেলের সঙ্গে এমন নোংরা ঘটনা ঘটেছে। আর যেন কারও সঙ্গে এমন ঘটনা না ঘটে, এজন্য আমি হুজুরের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’
এ বিষয়ে শহীদ স্মৃতি টুকেরবাজার উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবুল হাশেম বলেন, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী তাকে বিষয়টি জানিয়েছে। পরে তিনি প্রতিষ্ঠানের সভাপতিকে অবহিত করেছেন। সভাপতি ওই শিক্ষার্থীকে লিখিত আবেদন দিতে বলেছেন। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ উছমান গনি বলেন, বিষয়টি তারা খোঁজখবর নিচ্ছেন। এ ঘটনায় অভিযোগ পেলে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের কাছে শিশু-কিশোরদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা।