প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, মানুষের অধিকার, ভোটাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে যারা দীর্ঘদিন ধরে ষড়যন্ত্র করে আসছিল, জনগণ তাদের পরাজিত করেছে। তবে পরাজিত সেই মহল আবারও মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। নতুন করে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শনিবার (৭ নভেম্বর) ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে বিএনপির শোভাযাত্রা শেষে দেওয়া সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই একটি মহল বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পাশাপাশি মানুষের মৌলিক অধিকার, ভোট দেওয়ার অধিকার এবং স্বাধীনভাবে কথা বলার অধিকারের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র করে আসছিল। দেশের জনগণ তাদের সেই ষড়যন্ত্র ও অপচেষ্টাকে প্রত্যাখ্যান করেছে। কিন্তু পরাজিত শক্তি আবারও সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও সতর্ক থাকতে হবে।
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই দিনটি দেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচি থেকে দেশের মানুষের অধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষার অঙ্গীকার নতুন করে জোরালো করতে হবে।
তিনি উপস্থিত নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের উদ্দেশে বলেন, আসুন, আজকের জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই, যেকোনো মূল্যে দেশের সার্বভৌমত্ব এবং বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা করব। এটাই হোক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের প্রতিজ্ঞা।
তারেক রহমান আরও বলেন, যত দিন স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ থাকবে, তত দিন এই বিপ্লবের র্যালি চলমান থাকবে। দেশের স্বাধীনতা ও মানুষের অধিকার রক্ষার প্রশ্নে এই অঙ্গীকার অব্যাহত রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
এর আগে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে শনিবার বেলা তিনটার দিকে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শুরু হয়। এতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণে শোভাযাত্রাটি রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
নয়াপল্টন থেকে শুরু হওয়া শোভাযাত্রাটি কাকরাইল, হেয়ার রোড ও ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় হয়ে বাংলামোটর, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট ও বিজয় সরণি অতিক্রম করে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে গিয়ে শেষ হয়।
বিকেল সাড়ে চারটার দিকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে পৌঁছে একটি ট্রাকের ওপর দাঁড়িয়ে নেতা-কর্মী ও উপস্থিত জনতার উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় শোভাযাত্রায় তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা।
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিএনপির নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে দলটি দিবসটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরার পাশাপাশি দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার বার্তা দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বিশেষভাবে উঠে এসেছে জনগণের ভোটাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব সুরক্ষার বিষয়টি। তাঁর আহ্বান, অতীতের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক অধিকার ও স্বাধীনতার প্রশ্নে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।