• শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১১:২৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
তৌফিক হত্যার ঘটনায় মামলা নেই, শ্রমিক আন্দোলনে ১২ মামলায় আসামি ৫ হাজার শিশুদের খেলার আগ্রহ জানলেন তারেক রহমান, দিলেন সরঞ্জামের প্রতিশ্রুতি মাদকবিরোধী অবস্থান নেওয়ায় পুলিশ সদস্যের হাত-পা ভাঙল দুর্বৃত্তরা আমির হামজার বিরুদ্ধে অভিযোগ, আগে থেকেই জানতেন জামায়াত আমির: রাশেদ খাঁন মাদক কারবারিদের রাজনীতিতে থাকার অধিকার নেই: ইশরাক হবিগঞ্জে চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক সংবিধানে বিসমিল্লাহ ও আল্লাহর ওপর আস্থা ফেরানোর ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জনগণের দুর্ভোগ কমাতে দিনরাত কাজ করছে সরকার: ত্রাণমন্ত্রী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতিতে ফিরতে দেবে না জনগণ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিপ্লব ও সংহতি দিবসের শোভাযাত্রা নিয়ে যা জানালেন রিজভী

তৌফিক হত্যার ঘটনায় মামলা নেই, শ্রমিক আন্দোলনে ১২ মামলায় আসামি ৫ হাজার

newsline24 / ২৪ Time View
Update : শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬
তৌফিক হত্যার ঘটনায় মামলা নেই, শ্রমিক আন্দোলনে ১২ মামলায় আসামি ৫ হাজার
তৌফিক হত্যার ঘটনায় মামলা নেই, শ্রমিক আন্দোলনে ১২ মামলায় আসামি ৫ হাজার

গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংঘটিত ভাঙচুর ও নাশকতার ঘটনায় শিল্প পুলিশ ও গাজীপুর মহানগর পুলিশের (জিএমপি) পক্ষ থেকে ১২টি মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় পাঁচ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়েছেন ৭০ জন। তবে আন্দোলনের সময় ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়ে নিহত শ্রমিক তৌফিক শেখের মৃত্যুর ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। এতে ওই শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং আন্দোলনের সময় সংঘটিত সহিংসতার সঙ্গে তাঁদের সংশ্লিষ্টতা যাচাই করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ভাঙচুর ও নাশকতার ঘটনায় জেলা পুলিশের পক্ষ থেকেও আরও কয়েকটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন মামলা, গ্রেপ্তার এবং তৌফিক শেখের মৃত্যুর ঘটনায় মামলা না হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

১২ মামলায় পাঁচ হাজারের বেশি আসামি

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সহিংসতার ঘটনায় শিল্প পুলিশ-২ তিনটি এবং মহানগর পুলিশের বিভিন্ন থানা থেকে নয়টি মামলা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে মামলার সংখ্যা ১২। এসব মামলায় পাঁচ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-২ গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আজাদ হোসাইন জানান, তাঁদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় পাঁচ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ৪২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় ও ঘটনার সঙ্গে তাঁদের প্রকৃত সংশ্লিষ্টতা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

পুলিশ সুপার আজাদ হোসাইন আরও বলেন, বর্তমানে শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আগে থেকেই ৮ থেকে ১০টি কারখানা বন্ধ ছিল। তবে বাকি কারখানাগুলোতে উৎপাদন কার্যক্রম চালু রয়েছে।

মহানগর পুলিশের মামলায় গ্রেপ্তার ২৮

অন্যদিকে, গাজীপুর মহানগর পুলিশের (জিএমপি) বিভিন্ন থানায় শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে ভাঙচুর ও নাশকতার ঘটনায় নয়টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় এখন পর্যন্ত ২৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

জিএমপি কমিশনার ইসরাইল হাওলাদার জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পরিচয় এবং সহিংসতার ঘটনায় তাঁদের সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন জানিয়েছেন, নাশকতা ও ভাঙচুরের ঘটনায় আরও কয়েকটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। অর্থাৎ, শিল্প পুলিশ ও মহানগর পুলিশের করা ১২টি মামলার বাইরে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকেও নতুন মামলা হতে পারে।

তৌফিক হত্যায় এখনো মামলা হয়নি

এতগুলো মামলা ও গ্রেপ্তারের মধ্যেও শ্রমিক তৌফিক শেখের মৃত্যুর ঘটনায় এখনো কোনো মামলা না হওয়ায় বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। আন্দোলনের সময় ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে তিনি হামলার শিকার হন এবং পরে তাঁর মৃত্যু হয় বলে সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে কারা তাঁর ওপর হামলা চালিয়েছিল, কী পরিস্থিতিতে হামলার ঘটনা ঘটেছিল এবং এ ঘটনায় কারা জড়িত—এসব বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর ঘটনায় মামলা না হওয়ার কারণ সম্পর্কেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো ব্যাখ্যা উল্লেখ করা হয়নি।

একজন শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় মামলা না হওয়া এবং একই আন্দোলন ঘিরে পাঁচ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে আসামি করে একাধিক মামলা দায়েরের বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই জনমনে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। তৌফিক শেখের মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

গাজীপুর দেশের অন্যতম প্রধান পোশাকশিল্পাঞ্চল। এখানে শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিলে তার প্রভাব শুধু সংশ্লিষ্ট কারখানায় সীমাবদ্ধ থাকে না; উৎপাদন, সরবরাহব্যবস্থা এবং সামগ্রিক শিল্প পরিবেশেও এর প্রভাব পড়তে পারে। তাই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি শ্রমিকদের অভিযোগ ও দাবিদাওয়া যথাযথভাবে বিবেচনা করা জরুরি।

বর্তমানে অধিকাংশ কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম চালু থাকার কথা জানিয়েছে পুলিশ। তবে চলমান মামলাগুলোর তদন্ত, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতা যাচাই এবং শ্রমিক তৌফিক শেখের মৃত্যুর ঘটনার বিচারিক প্রক্রিয়া কীভাবে এগোয়, সেদিকেই এখন সংশ্লিষ্টদের নজর রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category