ঢাকার ধামরাইয়ে টানা দুই রাতে পৃথক স্থানে দাঁড়িয়ে থাকা দুটি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে একটি বাসের মালিক স্থানীয় বিএনপি নেতা শহিদুল ইসলাম। পরপর দুটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে এসব ঘটনা পরিকল্পিত নাশকতা, নাকি অন্য কোনো কারণে ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, আগুনে বাস দুটির আনুমানিক ৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। অন্যদিকে, দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনায় প্রায় ৯ লাখ টাকার সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। দুটি ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
সর্বশেষ শুক্রবার দিবাগত রাত ২টা ২৬ মিনিটের দিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ধামরাইয়ের শ্রীরামপুর এলাকায় স্কয়ার হাসপাতালের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। বাসটি পল্লী সেবা পরিবহনের। এর নিবন্ধন নম্বর ঢাকা মেট্রো-জ-৩২৬০। বাসটির মালিক সুতিপাড়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম।
খবর পেয়ে ধামরাই ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। স্টেশন কর্মকর্তা আল আমিন খানের নেতৃত্বে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা প্রায় ৫৪ মিনিটের চেষ্টায় রাত ৩টা ২০ মিনিটের দিকে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ফায়ার সার্ভিসের হিসাব অনুযায়ী, এ ঘটনায় বাসটির প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তবে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আগেই ব্যবস্থা নেওয়ায় প্রায় ৫ লাখ টাকার সম্পদ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
বাসের মালিক শহিদুল ইসলাম জানান, প্রতিদিনের মতো শুক্রবার রাতেও বাসটি ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের শ্রীরামপুর এলাকায় স্কয়ার হাসপাতালের সামনে রাখা হয়েছিল। গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা বাসটিতে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনার পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে থানায় অভিযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানান তিনি।
এর আগে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতেও ধামরাইয়ে একই ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ওই রাতে ধামরাই থানা রোডে ধামরাই পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সামনে মেরামতের জন্য রাখা পাভেল পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। বাসটির নিবন্ধন নম্বর চট্ট মেট্রো-জ-০৪-০১৩৯।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। তাদের প্রচেষ্টায় রাত ৩টা ১০ মিনিটের দিকে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে। এ ঘটনায় বাসটির আনুমানিক ২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। তবে প্রায় ৪ লাখ টাকার সম্পদ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
পরপর দুই রাতে উপজেলার পৃথক স্থানে দুটি বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মহাসড়কের পাশে ও জনবহুল এলাকার কাছাকাছি এ ধরনের ঘটনা ঘটায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে আগুন লাগার পেছনে কারা জড়িত, কী উদ্দেশ্যে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে কিংবা দুটি ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা খান বলেন, দুই রাতে দুটি বাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নাশকতা, নাকি অন্য কোনো কারণে ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের ভিত্তিতে ঘটনার প্রকৃত কারণ শনাক্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফায়ার সার্ভিসও জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ তদন্তের পর জানা যাবে। ফলে পরপর দুই রাতে ঘটে যাওয়া এসব ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে এখন তদন্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।