এর আগে, মাসিক ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে রোববার সকাল ৯টার দিকে রাজধানীর বিভিন্ন পোশাক কারখানার কয়েক শ শ্রমিক সড়কে নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। তাঁদের এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে মিরপুর এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আশপাশের এলাকায় তৈরি হয় যানজট।
শ্রমিকদের বিক্ষোভের কারণে জননিরাপত্তা ও যাত্রীদের সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মেট্রোরেলের শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, মিরপুর-১০, মিরপুর-১১ ও পল্লবী স্টেশনের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। ফলে এসব স্টেশনে যাত্রী ওঠানামা এবং ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে মেট্রোরেল ব্যবহারকারী যাত্রীদের সাময়িক ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, একপর্যায়ে বিক্ষোভকারী শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সকাল ১১টার দিকে মিরপুর-১০ এলাকায় বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিপেটা করে পুলিশ। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করেন। জবাবে বিক্ষোভকারীদের একাংশকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে দেখা যায়।
প্রায় ৪০ মিনিট ধরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ চলে। পরে পুলিশ মিরপুর এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষের সময় সড়কে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের চলাচলও বাধাগ্রস্ত হয়।
এ পরিস্থিতিতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে মেট্রোরেলের পাঁচটি স্টেশন বন্ধ রাখে কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর পর্যায়ক্রমে স্টেশনগুলোর কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হয়। পরে এমআরটি পুলিশ কন্ট্রোলরুম থেকে জানানো হয়, বন্ধ থাকা স্টেশনগুলো চালু হয়েছে এবং মেট্রোরেলের সব স্টেশনে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
উল্লেখ্য, রাজধানীর যানজট এড়িয়ে দ্রুত এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াতের জন্য মেট্রোরেল এখন নগরবাসীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গণপরিবহন। বিশেষ করে মিরপুর ও পল্লবী এলাকার যাত্রীদের দৈনন্দিন যাতায়াতে এই রেলব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে নিরাপত্তাজনিত কারণে কয়েকটি স্টেশন সাময়িক বন্ধ থাকলেও যাত্রীদের চলাচলে এর প্রভাব পড়ে।
তবে রোববারের ঘটনার পর সব স্টেশন পুনরায় চালু হওয়ায় মেট্রোরেল ব্যবহারকারীদের সাময়িক ভোগান্তির অবসান হয়েছে। বর্তমানে পুরো রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে এমআরটি পুলিশ কন্ট্রোলরুম।