রোববার (১ নভেম্বর) পিবিআইয়ের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পুলিশ সুপার মো. আবু ইউসুফ মোটরসাইকেলটির মালিকানা নিশ্চিত হওয়ার তথ্য জানান।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার বিকেলে ঢাকার তুরাগ নদ থেকে কে এম তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহ উদ্ধারের স্থান থেকে প্রায় ৫০ গজ দূরে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় মোটরসাইকেলটি পাওয়া যায়। পরে সেটির মালিকানা যাচাই করে পিবিআই নিশ্চিত হয়, এটি তাহসিফের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল।
পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ জানান, মিরপুর-২ নম্বর এলাকার একটি শোরুম থেকে মোটরসাইকেলটি কিনেছিলেন তাহসিফ। পিবিআইয়ের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. এনায়েত হোসেন মান্নান জানান, ২০২২ সালে মোটরসাইকেলটি কেনা হলেও এখন পর্যন্ত সেটির নিবন্ধন সম্পন্ন করা হয়নি।
তদন্তে উঠে এসেছে, নিখোঁজ হওয়ার আগে বন্ধুর মতো সম্পর্কের এক ছোট ভাইয়ের ডাকে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন তাহসিফ। ওই ব্যক্তির নাম আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা থেকে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় করা হত্যা মামলায় বর্তমানে চার দিনের রিমান্ডে রয়েছেন দীপ। রাজধানীর উত্তরখান থানায় মামলাটি করা হয়েছে। তাঁর কাছ থেকে পাওয়া তথ্য এবং অন্যান্য আলামত যাচাই করে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এদিকে, মামলাটির তদন্ত করছে নৌ পুলিশ। তুরাগ নদ থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার, ঘটনাস্থলের কাছাকাছি মোটরসাইকেলটির অবস্থান এবং সেটি সেখানে কীভাবে পৌঁছাল—এসব বিষয় তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মোটরসাইকেলটির মালিকানা নিশ্চিত হওয়ায় তাহসিফের শেষ যাত্রা এবং তাঁর মৃত্যুর আগে ও পরের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে তিনি কীভাবে মারা গেছেন, মোটরসাইকেলটি মাজার বস্তি এলাকায় নেওয়ার পেছনে কারা জড়িত এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী—এসব প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর তদন্ত শেষ হওয়ার পরই জানা যাবে। মামলার তদন্তে পাওয়া তথ্য ও আলামতের ভিত্তিতে পুরো ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে।