বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এলিজা জামানের মনোনয়নের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এলিজা জামান বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। তিনি পিরোজপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক তিনি। দলীয় রাজনীতিতে বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।
এর আগে গত ১৮ অক্টোবর সংরক্ষিত নারী আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পেতে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন মেঘনা আলম। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে নিজের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার কথা জানান তিনি। পোস্টে জনগণের সমর্থন নিয়ে তাদের সেবা করার প্রত্যাশার কথাও তুলে ধরেন এই মডেল ও রাজনীতিবিদ।
মেঘনা আলম তার পোস্টে লিখেছিলেন, ‘জনগণের সমর্থন নিয়ে, জনগণের সেবার উদ্দেশ্যে, শূন্য ঘোষিত মহিলা আসনের উপনির্বাচনে প্রার্থী হতে আজ বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন পলিটিক্যাল এডুকেটর, মেঘনা আলম। আলহামদুলিল্লাহ।’
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর বিএনপির প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন মেঘনা আলম। ওই সময় তার পোশাক ও সাজসজ্জা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়। প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সাজের সঙ্গে তার উপস্থিতির মিল রয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়।
তবে বিষয়টি নিয়ে নিজের অবস্থানও ব্যাখ্যা করেছিলেন মেঘনা। তার দাবি ছিল, ইচ্ছাকৃতভাবে খালেদা জিয়ার মতো সাজেননি তিনি। নিজেকে মার্জিতভাবে উপস্থাপন করতে গিয়ে তার সাজ প্রয়াত প্রধানমন্ত্রীর সাজের সঙ্গে মিলে গেছে বলে জানান তিনি।
বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী থাকলেও শেষ পর্যন্ত দলীয় সিদ্ধান্তে তার নাম আসেনি। অন্যদিকে, মনোনয়ন না পাওয়ার বিষয়ে মেঘনা আলম এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ার পর তিনি পরবর্তী সময়ে কী সিদ্ধান্ত নেন, তা নিয়েও এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সংরক্ষিত নারী আসনটি শূন্য হয় গত ১ অক্টোবর। ওই দিন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করেন। এরপর আসনটিতে উপনির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করা হয়। বিএনপির পক্ষ থেকে এলিজা জামানকে মনোনয়ন দেওয়ার মধ্য দিয়ে নির্বাচনে দলটির প্রার্থী চূড়ান্ত হলো।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ২৬ অক্টোবর। পরদিন ২৭ অক্টোবর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। বাছাইয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ থাকবে ২৮ অক্টোবর। এসব আপিল নিষ্পত্তির জন্য ২৯ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছে।
তফসিল অনুযায়ী, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১ নভেম্বর। পরদিন ২ নভেম্বর প্রার্থীদের মধ্যে নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। সব প্রক্রিয়া শেষে আগামী ১২ নভেম্বর ভোট গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে নির্বাচনে একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকবেন কি না, তার ওপরও চূড়ান্ত ফলাফলের প্রক্রিয়া নির্ভর করছে। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর যদি মাত্র একজন বৈধ প্রার্থী অবশিষ্ট থাকেন, তাহলে তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে। ফলে এলিজা জামানের সংসদ সদস্য হওয়া চূড়ান্তভাবে নির্ভর করছে নির্বাচনের পরবর্তী আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার ওপর।
সংরক্ষিত নারী আসনের এই উপনির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন ঘিরে মেঘনা আলমের অংশগ্রহণ এবং শেষ পর্যন্ত এলিজা জামানের মনোনয়ন—দুটি বিষয়ই রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী যাচাই-বাছাই, আপিল ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ধাপ শেষে ভোটের চূড়ান্ত পরিস্থিতি স্পষ্ট হবে।