রোববার (২৫ অক্টোবর) রাতে জয়দেবপুর থানায় মামলাটি করেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে গাজীপুর সদর উপজেলার বিকেবাড়ি সিকদার মার্কেট-সংলগ্ন দারুল মা’আরিফ হোসাইনিয়া কওমি মাদ্রাসা ও মারকাযুল কুরআন আদর্শ মহিলা মাদ্রাসার পরিচালক ও প্রধান শিক্ষক আরিফুল ইসলামকে (২৯)।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন আরিফুল ইসলামের ভাই শরীফ মিয়া (৩৫), বাবা সেলিম মিয়া (৫৫), মা রহিমা খাতুন (৪০) এবং দেলোয়ার হোসেন (৪৫)। অভিযোগে বলা হয়েছে, শরীফ মিয়া, সেলিম মিয়া ও রহিমা খাতুন বানিয়ারচালা মেম্বারবাড়ি এলাকার ফারুক হোসেনের বাড়ির ভাড়াটিয়া। অন্যদিকে দেলোয়ার হোসেন পিরুজালী বর্তাপাড়া এলাকার জাফরের বাড়িতে ভাড়া থাকেন। আসামিদের সবার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ সদর থানার চর বওলা গ্রামে।
থানায় দায়ের করা মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মারকাযুল কুরআন আদর্শ মহিলা মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণিতে পড়ত। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও প্রধান শিক্ষক আরিফুল ইসলাম তাকে প্রেমের প্রস্তাব দেওয়াসহ বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করতেন।
শিক্ষার্থী তাঁর প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাঁকে জোর করে অপহরণের হুমকি দেওয়া হতো বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি শিক্ষার্থী তার পরিবারকে জানালে পরিবারের সদস্যরা তাকে সতর্কতার সঙ্গে চলাফেরা করার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে তাঁরা আরিফুল ইসলামকে এ ধরনের আচরণ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, পরিবারের পক্ষ থেকে আপত্তি জানানোর পর আরিফুল ইসলাম আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এরপর তিনি বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিতে থাকেন বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীর বাবা।
এজাহারে বলা হয়েছে, গত ১০ অক্টোবর সকালে শিক্ষার্থী মাদ্রাসায় যাওয়ার পর আরিফুল ইসলাম তাঁর ভাই শরীফ মিয়া, বাবা সেলিম মিয়া, মা রহিমা খাতুন এবং দেলোয়ার হোসেনের সহযোগিতায় তাকে অপহরণ করেন।
মেয়েকে অপহরণের খবর বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। নিজেদের উদ্যোগে তাকে উদ্ধার করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত থানায় মামলা করেন তাঁর বাবা।
পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে। জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন জানান, উদ্ধার করা শিক্ষার্থীকে তার পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি শিক্ষক আরিফুল ইসলামসহ অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ওঠায় ঘটনাটি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা, আস্থার পরিবেশ এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো শিক্ষার্থী হয়রানি বা হুমকির শিকার হলে বিষয়টি পরিবার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো এবং দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
তবে এ ঘটনায় যাঁদের আসামি করা হয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। পুলিশি তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত তথ্য এবং প্রত্যেকের সংশ্লিষ্টতা নির্ধারিত হবে।
উল্লেখ্য, গাজীপুরের টঙ্গীতে আট বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন নির্যাতনের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই জেলাটিতে শিক্ষার্থীকে অপহরণের এ অভিযোগ সামনে এল। পরপর এমন অভিযোগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশু ও কিশোরীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযোগের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে।