প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে পরীক্ষা শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেন চাকরিপ্রার্থীরা। পরে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।
পরীক্ষার্থীদের ভাষ্য, বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রবেশের পর তাঁদের উত্তরপত্র দেওয়া হলেও প্রশ্নপত্র বিতরণের আগেই পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা আসে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকায় এসে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া চাকরিপ্রার্থীরা এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন। তাঁদের অভিযোগ, পরীক্ষা শুরুর কয়েক মুহূর্ত আগে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ায় যাতায়াত ও অন্যান্য খরচের পাশাপাশি সময়ও নষ্ট হয়েছে।
পরীক্ষা স্থগিতের প্রতিবাদে বেলা সোয়া ১১টার দিকে রাজধানীর সাতমসজিদ সড়ক অবরোধ করেন চাকরিপ্রার্থীরা। সাড়ে ১১টার দিকে তাঁরা মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতেও অবস্থান নেন। পরে মতিঝিলে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কার্যালয়ের সামনেও বিক্ষোভ করেন তাঁরা। এ ছাড়া শাহবাগে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন একদল পরীক্ষার্থী। দুপুর দেড়টার দিকে সেখানে কর্মসূচি শেষ হয়।
চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ থেকে পরীক্ষা দিতে আসা নাজিম উদ্দীন জানান, এ নিয়োগ পরীক্ষায় তিন লাখের বেশি আবেদনকারী রয়েছেন। তাঁর কেন্দ্র ছিল তেজগাঁও স্কুল অ্যান্ড কলেজে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে চাকরিপ্রার্থীরা ঢাকায় এসেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিভাগীয় শহরগুলোতে পরীক্ষা নেওয়া হলে তাঁদের ভোগান্তি কম হতো।
পাবনা থেকে আসা রোবায়েতের কেন্দ্র ছিল মধুবাগের শের-ই-বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ। পরীক্ষা দিতে এসে তিনি সেটি স্থগিত হওয়ার খবর পান।
ময়মনসিংহের নান্দাইল থেকে আসা আনোয়ার হোসেনের কেন্দ্র ছিল পুরান ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজে। শাহবাগে বিক্ষোভের সময় তিনি বলেন, ওএমআর শিটের অপেক্ষায় থাকার মধ্যে তাঁদের পরীক্ষা স্থগিতের কথা জানানো হয়। এত নিরাপত্তার মধ্যেও কীভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। এ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তিও দাবি করেন আনোয়ার।
কুড়িগ্রামের রৌমারী থেকে আসা রাজু আহমেদের কেন্দ্র ছিল খিলগাঁও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। তাঁর অভিযোগ, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা চাকরিপ্রার্থীদের ভোগান্তির বিষয়টি দায়িত্বশীলদের বিবেচনায় নেওয়া উচিত ছিল। অনেক বেকার প্রার্থীর পক্ষে বারবার যাতায়াতের খরচ বহন করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। শনিবার মন্ত্রণালয়ের যুব-১ শাখা থেকে জারি করা অফিস আদেশে কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তদন্তে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের সত্যতা এবং এ ঘটনায় কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায় কি না, তা স্পষ্ট হওয়ার কথা। তবে এ বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের আগে কাউকে দায়ী করার সুযোগ নেই। পরীক্ষা স্থগিতের পর চাকরিপ্রার্থীদের পরবর্তী করণীয় এবং নিয়োগ পরীক্ষার নতুন তারিখ সম্পর্কে কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।