২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে জুয়েলকে হত্যাচেষ্টার মামলায় জামালপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. নূর মোহাম্মদকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। রোববার কারাগার থেকে তাঁকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করার পর পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেওয়া হয়। শুনানি শেষে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।
রোববার (১১ অক্টোবর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ এ আদেশ দেন। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে নূর মোহাম্মদকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেছিল পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করেন। পরে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।
মিছিলে অংশ নিয়ে গুলিবিদ্ধ হন জুয়েল
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একটি মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন জুয়েল। ওই সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। পরে চিকিৎসা নেওয়ার পর এ ঘটনায় তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় মামলা দায়ের করেন তিনি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণের অভিযোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে একাধিক মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্ত করে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে কোনো মামলায় অভিযোগ ওঠা বা কাউকে গ্রেফতার দেখানো মানেই তাঁর অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়; অভিযোগের সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
তদন্তের স্বার্থে পুলিশের আবেদন
আদালতে পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নূর মোহাম্মদকে জুয়েলকে হত্যাচেষ্টার মামলায় গ্রেফতার দেখানোর অনুমতি দেওয়া হয়। এর আগে থেকেই তিনি কারাগারে ছিলেন। এ মামলায় গ্রেফতার দেখানোর পর তাঁকে কারাগারে রাখার নির্দেশ দেন বিচারক।
জামালপুর-১ আসনের সাবেক এই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলাটির তদন্তে কী কী তথ্য পাওয়া গেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করা হয়নি। একইভাবে, ঘটনার সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার বিষয়ে আদালতের আদেশে নতুন কোনো সিদ্ধান্তের কথাও জানানো হয়নি।
মামলার পরবর্তী কার্যক্রমে তদন্তের অগ্রগতি, অভিযোগের পক্ষে উপস্থাপিত তথ্যপ্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। আপাতত আদালতের আদেশ অনুযায়ী কারাগারেই থাকতে হবে সাবেক সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদকে।