উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ করা জনগণের অর্থের প্রতিটি পয়সা দেশের স্বার্থ ও মানুষের কল্যাণে ব্যয় নিশ্চিত করতে সরকারি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। রোববার সচিবালয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম ও উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব নির্দেশনা দেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, সভায় মন্ত্রণালয়ের চলমান কার্যক্রম, গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্প, ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা এবং নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ সময় প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং সরকারি বরাদ্দের যথাযথ ব্যবহারের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে।
সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রণালয়ের অধীনে একাধিক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিভিন্ন লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব লক্ষ্য অর্জনে সরকার বাজেট বরাদ্দ দেবে। তবে বরাদ্দের অর্থ জনগণের, তাই এর প্রতিটি পয়সা যেন সঠিকভাবে দেশের স্বার্থে ও মানুষের কল্যাণে ব্যয় হয়, সে বিষয়ে কর্মকর্তাদের বিশেষ মনোযোগী হতে হবে।
তিনি বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার তুলনায় সরকারি দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেয়েছেন। এই সুযোগকে ব্যক্তিগত সুবিধার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানো প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আল্লাহ তাআলা তাঁদের দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করার সুযোগ দিয়েছেন। যার যতটুকু দায়িত্ব পালনের সুযোগ রয়েছে, তা আন্তরিকতার সঙ্গে কাজে লাগানোর চেষ্টা করতে হবে। দায়িত্ব পালনের এমন সুযোগ সব সময় থাকে না। তাই যে যখন যে দায়িত্বে থাকবেন, তখন সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করাই হবে মানুষের প্রতি কর্তব্য।
সভায় কর্মকর্তাদের আরও সক্রিয়ভাবে মতামত দেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, মাঠপর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণ নীতিনির্ধারণ এবং সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ কারণে তাঁদের অভিজ্ঞতা, সমস্যা ও পরামর্শ খোলামেলাভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন।
মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে ভবিষ্যতেও পর্যালোচনা সভা হবে বলে জানান তিনি। পরবর্তী বৈঠকগুলোতে কর্মকর্তারা আরও খোলামেলাভাবে নিজেদের মতামত ও পর্যবেক্ষণ তুলে ধরবেন বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সচিব দেলোয়ার হোসেনসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।