ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বিক্ষোভের দ্বিতীয় দিনের প্রস্তুতির মধ্যে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকসহ শীর্ষ তিন নেতাকে মুক্তির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তবে আগামী এক বছর শান্তিভঙ্গের মতো কর্মকাণ্ডে জড়ানো যাবে না—এমন শর্তে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির আইনজীবী। এদিকে নতুন করে বিক্ষোভের আশঙ্কায় দিল্লিজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ। বিভিন্ন সড়কে ব্যারিকেড বসানোর পাশাপাশি মোতায়েন করা হয়েছে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার (১০ অক্টোবর) দিল্লিতে পৌঁছানোর পর সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক এবং সংগঠনটির দুই জ্যেষ্ঠ নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাকে আটক করা হয়। নির্বাচন কমিশনের প্রধান জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং নির্বাচনী সংস্কারের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভে অংশ নিতে যাচ্ছিলেন তারা।
রোববার (১১ অক্টোবর) সকালে সংগঠনটির আইনজীবী রত্না সিং জানান, পুলিশ তিন নেতাকে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করে জনশান্তি বজায় রাখার যুক্তিতে তাদের রিমান্ড চাওয়ার কথা জানিয়েছিল। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি তিন নেতার মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে আদালতের আরোপিত শর্ত অনুযায়ী, আগামী এক বছর তারা শান্তিভঙ্গের মতো কোনো কর্মকাণ্ডে জড়াতে পারবেন না বলে জানান তিনি।
এর আগে শনিবার দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি পুলিশ। আন্দোলনকারীরা যাতে সেখানে পৌঁছাতে না পারেন, সে জন্য রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই দিন প্রায় সাত হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছিল। পরে রাতেই তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে রাখতে অন্তত ৪৫টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়। দিল্লির প্রধান রেলস্টেশনগুলোও বন্ধ ছিল এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনের চলাচল বাতিল করা হয়। রাজধানীর বাইরে থেকে আসা অনেক বিক্ষোভকারীকে পথেই ট্রেন থেকে নামিয়ে দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সড়কে ব্যারিকেড, বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন এবং দোকানপাট ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় দিল্লির অনেক এলাকা কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেও বিভিন্ন স্থান থেকে আন্দোলনকারীরা জড়ো হন। তাদের মধ্যে অধিকারকর্মী, শিক্ষার্থী ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরাও ছিলেন। অনেককে আটক করার পর ছেড়ে দেওয়া হয়।
সিজেপি রোববারও নতুন করে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। ফলে রাজধানীতে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ।
ভোটার তালিকা সংশোধন কার্যক্রমকে কেন্দ্র করেই এই বিরোধের সূত্রপাত। ভারতের নির্বাচন কমিশনের দাবি, মৃত ব্যক্তি, একাধিকবার নিবন্ধিত ভোটার এবং ভোট দেওয়ার যোগ্য নন—এমন ব্যক্তিদের নাম বাদ দিতে নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তালিকা সংশোধন করা হচ্ছে।
তবে বিরোধী দল ও সিজেপির অভিযোগ, এই কার্যক্রমে বিপুলসংখ্যক যোগ্য ভোটারের নামও বাদ পড়েছে। বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ১৩ কোটি নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন রাজ্যে বহু মানুষ তাদের নাম অন্যায়ভাবে বাদ পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন।
সিজেপি ও বিরোধী দলগুলোর দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের প্রধান জ্ঞানেশ কুমার ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রতি পক্ষপাত দেখাচ্ছেন। তবে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি উভয়েই এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
ভোটার তালিকা সংশোধনের স্বচ্ছতা, যোগ্য ভোটারদের অধিকার এবং নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে এই বিরোধের মধ্যেই দিল্লিতে নতুন করে বিক্ষোভের প্রস্তুতি চলছে। ফলে রাজনৈতিক উত্তেজনার পাশাপাশি রাজধানীর নিরাপত্তা পরিস্থিতিও কর্তৃপক্ষের নজরদারিতে রয়েছে।