পাটের বর্তমান বাজারমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম। পাটচাষিদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরাসরি বীজ, সার ও কীটনাশক সরবরাহের পাশাপাশি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা পাটের ক্রয়কেন্দ্রগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য ঠেকাতে বাজার মনিটরিং জোরদার করার কথাও জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।
শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে টাঙ্গাইলের সন্তোষে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সহধর্মিণীর ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ও আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন শরীফুল আলম।
পাটচাষিদের স্বার্থ সুরক্ষায় সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে সরাসরি বীজ, সার ও কীটনাশক সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি গত ১৭ বছর ধরে বন্ধ থাকা পাটের ক্রয়কেন্দ্রগুলো আবার চালুর চেষ্টা চলছে। এসব কেন্দ্র চালু করা গেলে কৃষকের উৎপাদিত পাট বাজারজাতকরণে সুবিধা বাড়বে এবং ন্যায্যমূল্য পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শরীফুল আলম বলেন, বাজার তদারকির ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, যাতে মধ্যস্বত্বভোগীরা দাদন দেওয়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে কৃষকদের কাছ থেকে কম দামে পাট কিনে নিতে না পারে। কৃষক যেন উৎপাদিত পণ্যের যথাযথ মূল্য পান, তা নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
পাট বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৃষিপণ্য। দেশের কৃষক, পাটকল ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসার সঙ্গে এ খাতের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। উৎপাদন খরচের তুলনায় পাটের বিক্রয়মূল্য কমে গেলে কৃষক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। এ পরিস্থিতিতে কৃষি উপকরণ সরবরাহ, ন্যায্য বাজারমূল্য নিশ্চিত করা এবং কার্যকর বাজার তদারকি পাটচাষিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বন্ধ ক্রয়কেন্দ্রগুলো চালুর উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কৃষকের পাট বিক্রির সুযোগ বাড়তে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম, ক্রয়ব্যবস্থা এবং বাজার পরিস্থিতির ওপর নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের স্বস্তি ও শান্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি সবার বসবাসের উপযোগী সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে সরকার কাজ করছে। মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর কর্মময় জীবন এ পথচলায় অনুপ্রেরণা জোগাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। মওলানা ভাসানী ফাউন্ডেশনের মহাসচিব মাহমুদুল হক সানুর সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এবিএম শহিদুল ইসলামসহ অন্যরা।