গাজীপুরের শ্রীপুরে সুতিয়া নদীতে সাঁতার কাটতে গিয়ে পানিতে ডুবে একই বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার দুপুরে উপজেলার বাপ্তা-বেলদিয়া এলাকায় মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটে। ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠান শেষে কয়েকজন সহপাঠীর সঙ্গে নদীতে সাঁতার কাটতে গিয়ে তারা ডুবে যায়।
নিহত দুই শিক্ষার্থী হলো—বেলদিয়া গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে রাব্বী (১১) এবং একই গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে মুত্তাসীন (১১)। তারা দুজনই বাপ্তা-বেলদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বুধবার সকালে বিদ্যালয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠান শেষে রাব্বী, মুত্তাসীনসহ কয়েকজন সহপাঠী বাড়ির কাছেই সুতিয়া নদীতে সাঁতার কাটতে যায়।
শিশুরা নদীতে নামার কিছুক্ষণ পর একপর্যায়ে তাদের একজন পানিতে ডুবে যেতে শুরু করে। তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করতে গিয়ে অপর শিশুটিও পানিতে নামে। এরপর দুজনই নদীর পানিতে তলিয়ে যায়। সঙ্গে থাকা অন্য শিশুরা ঘটনাটি দেখে আতঙ্কিত হয়ে চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন।
পরে স্থানীয় বাসিন্দারা নদীতে নেমে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কিছু সময় পর রাব্বী ও মুত্তাসীনকে পানির নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়। দ্রুত তাদের শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা করে দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
দুই শিশুর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বাপ্তা-বেলদিয়া এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। একই বিদ্যালয়ের দুই সহপাঠীর একসঙ্গে এমন মৃত্যুতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীুনুর আলম বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে দুই শিশুর পানিতে ডুবে যাওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ বিষয়টি জানতে পারে। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্ষা মৌসুমে সুতিয়া নদীতে পানির পরিমাণ ও স্রোত দুটিই বেড়ে যায়। ফলে নদীতে সাঁতার কাটার সময় শিশুদের জন্য ঝুঁকি তৈরি হয়। তারপরও নদীর আশপাশের অনেক শিশু সেখানে সাঁতার কাটে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, শিশুদের সাঁতার শেখার আগ্রহ থাকলেও নদীর মতো প্রাকৃতিক জলাশয়ে তাদের একা নামা ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে বর্ষাকালে পানির গভীরতা, স্রোত ও তলদেশের পরিবর্তন সম্পর্কে শিশুরা সবসময় ধারণা রাখতে পারে না। তাই অভিভাবকদের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়েও নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।
দুই শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু আবারও বর্ষাকালে নদী ও অন্যান্য জলাশয়ে শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এনেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা সুতিয়া নদীর ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া এবং শিশুদের নদীতে সাঁতার কাটার বিষয়ে পরিবার ও বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সচেতনতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।