ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে পাচারের চেষ্টার সময় ৪১ বছর বয়সী এক নারীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মানবপাচারকারী চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মো. ইমন (১৯) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ভালো বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে সংঘবদ্ধ একটি চক্র ওই নারীকে সীমান্তবর্তী এলাকায় নিয়ে আসে। পরে তাকে অবৈধ পথে ভারতে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। তবে সীমান্ত পার করাতে ব্যর্থ হয়ে চক্রের সদস্যরা তাকে ইমনের বাড়িতে আটকে রাখেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
উদ্ধার হওয়া নারীর নাম নিতুন জেরা (৪১)। তিনি রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার উজিয়াল গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি গাজীপুরের টঙ্গী শিল্পাঞ্চল এলাকায় বসবাস করছিলেন। গ্রেপ্তার ইমন মহেশপুর উপজেলার বাঘাডাংগা গ্রামের খাইরুল ইসলামের ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ আগস্ট ওই নারীকে জীবননগর হয়ে মহেশপুরের বাঘাডাংগা সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। সীমান্ত দিয়ে পার করানোর উদ্যোগ ব্যর্থ হলে তাকে বাঘাডাংগা এলাকায় ইমনের বাড়িতে নিয়ে আটকে রাখা হয়।
আটক অবস্থায় সুযোগ বুঝে ওই নারী জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশের সহায়তা চান। তাঁর ফোন পেয়ে মহেশপুর থানার পুলিশ দ্রুত বাঘাডাংগা এলাকায় অভিযান চালায়। পরে ইমনের বাড়ি থেকে তাকে উদ্ধার করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের ধারণা, চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ওই নারীকে সীমান্ত এলাকায় নিয়ে যাওয়ার পেছনে একটি সংঘবদ্ধ চক্র কাজ করেছে। এ ধরনের চক্র সাধারণত বিদেশে চাকরি বা ভালো আয়ের সুযোগ দেওয়ার কথা বলে মানুষকে প্রলুব্ধ করে সীমান্তবর্তী এলাকায় নিয়ে যায়। পরে অবৈধ পথে অন্য দেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। এই ঘটনায়ও একই ধরনের প্রলোভনের অভিযোগ সামনে এসেছে।
এ ঘটনায় সাভারের জাহিদুল ইসলাম মীর, স্থানীয় সামিনুর ও আমিনুর রহমানসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করে মহেশপুর থানায় মামলা করা হয়েছে। মামলায় মানবপাচার ও অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপারের অভিযোগ আনা হয়েছে।
মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলাটি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ইমনকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য সীমান্ত এলাকায় পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ঘটনাটি আবারও দেখিয়ে দিল, বিদেশে চাকরি বা ভালো আয়ের সুযোগের নামে দেওয়া প্রস্তাব যাচাই না করে গ্রহণ করলে বিপদের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকায় অপরিচিত ব্যক্তি বা দালালের মাধ্যমে বিদেশ যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও বৈধ প্রক্রিয়া যাচাই করা জরুরি। এ ঘটনায় ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে ওই নারীর সহায়তা চাওয়াও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।