পবিত্র নগরী মক্কা মুকাররমায় বিমান হামলার সতর্কসংকেত (সাইরেন) বাজার ঘটনাকে মুসলিম বিশ্বের জন্য বড় ধরনের সতর্কবার্তা হিসেবে উল্লেখ করেছেন পাকিস্তানের প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ ও সাবেক বিচারপতি মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানি। সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলে সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি এ ঘটনার তীব্র নিন্দাও জানিয়েছেন।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় মুফতি তাকি উসমানি সৌদি ভূখণ্ডে হামলার হুমকি এবং পবিত্র মক্কায় সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানোর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্যে মক্কার মতো ইসলামের অন্যতম পবিত্র স্থানকে ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগের বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে আসে।
মুফতি তাকি উসমানি বলেন, বর্তমান স্পর্শকাতর পরিস্থিতিতে ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ সৌদি আরবকে লক্ষ্যবস্তু করা অত্যন্ত বিপজ্জনক ও নিন্দনীয়। তাঁর মতে, মক্কায় ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এ ধরনের জরুরি সতর্কসংকেত বেজে ওঠা কোনো সাধারণ ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তিনি এটিকে পুরো মুসলিম উম্মাহর জন্য বড় ধরনের হুঁশিয়ারি হিসেবে উল্লেখ করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি চলমান সংকটে সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়েও কঠোর সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, সৌদি আরবকে সুরক্ষা ও পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিধা এবং অবস্থান পরিবর্তন তাদের দীর্ঘদিনের নীতির বিষয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে।
এর আগে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের মক্কা, জেদ্দা ও তাইফসহ কয়েকটি এলাকায় আকাশপথে হামলার হুমকি নিয়ে সতর্কতা জারি করা হয়। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই ওই সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলেও পরিস্থিতি পরে নিয়ন্ত্রণে আসে।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ইরান-সমর্থিত হুতিদের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর সৌদি আরবের কয়েকটি এলাকায় এমন সতর্কতা জারি করা হয়। তবে মক্কাকে লক্ষ্য করে সরাসরি কোনো হামলা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।
মক্কা ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র নগরী এবং প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুলসংখ্যক মুসল্লি ও ওমরাহ পালনকারী সেখানে যান। ফলে নগরীটির নিরাপত্তা নিয়ে যেকোনো সতর্কতা বা সামরিক হুমকি স্বাভাবিকভাবেই ব্যাপক উদ্বেগের জন্ম দেয়। বিশেষ করে আকাশপথে হামলার সতর্কসংকেতের মতো ঘটনা পবিত্র নগরীটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
তাকি উসমানির বক্তব্য মূলত এই ঘটনাকে শুধু সৌদি আরবের নিরাপত্তা সংকট হিসেবে না দেখে বৃহত্তর মুসলিম বিশ্বের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রভাব যাতে পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তায় না পড়ে, সেই উদ্বেগও তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে।