• বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৪ অপরাহ্ন

বিডিআর হত্যার সাক্ষীদের পেট চিরে নদীতে ফেলার অভিযোগ

newsline24 / ৪ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বিডিআর হত্যার সাক্ষীদের পেট চিরে নদীতে ফেলার অভিযোগ
বিডিআর হত্যার সাক্ষীদের পেট চিরে নদীতে ফেলার অভিযোগ

বিডিআর হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী চারজনকে গুলি করে হত্যার পর তাদের মরদেহের পেট চিরে সিমেন্টের বস্তার সঙ্গে বেঁধে বলেশ্বর নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন মেজর সাব্বির। তাঁর দাবি, ২০১০ সালের মে মাসে র‌্যাবের ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের তৎকালীন প্রধান জিয়াউল আহসানের উপস্থিতি ও নির্দেশে র‌্যাব-৮-এর ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের সদস্যরা ওই হত্যাকাণ্ড ঘটান।

বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ গুমের মামলায় সাক্ষ্য দেওয়ার সময় এসব তথ্য তুলে ধরেন মেজর সাব্বির। তিনি ওই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে আদালতে বর্ণনা দেন বলে জানা গেছে।

সাক্ষ্যে মেজর সাব্বির বলেন, পাথরঘাটার চরদুয়ানী এলাকায় বলেশ্বর নদীতে একটি মাছ ধরার ট্রলারে করে চারজনকে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁদের মুখ ও পুরো শরীর ঢেকে রাখা হয়েছিল। পরে নদীর মধ্যে নিয়ে তাঁদের গুলি করে হত্যা করা হয়। এরপর মরদেহের পেট চিরে সিমেন্টের বস্তার সঙ্গে বেঁধে পানিতে ফেলে দেওয়া হয় বলে তিনি ট্রাইব্যুনালকে জানান।

সাক্ষ্যে চারজনের মধ্যে নজরুল ইসলামসহ অন্যদের কথা উল্লেখ করেন মেজর সাব্বির। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, তাঁদের চোখ বাঁধা অবস্থায় নদীতে নেওয়া হয় এবং পরে গুলি করে হত্যা করা হয়। মরদেহ যেন পানিতে ভেসে না ওঠে, সে জন্য সিমেন্টের বস্তা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেন।

একই ধরনের প্রক্রিয়ায় ২০১০ সালে আরও একজনকে হত্যা করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল বলেও সাক্ষ্য দেন সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা। তাঁর বক্তব্যে ওই সময়কার কথিত গুম ও হত্যাকাণ্ডের আরও একটি ঘটনার বিবরণ উঠে আসে।

মেজর সাব্বির আরও জানান, ২০১১ সালে জিয়াউল আহসানের কথিত ‘গলফ অপারেশন’-এর সঙ্গে যুক্ত ট্রলার মাঝিদের একজন আলকাস মাঝিকেও গুম করে হত্যা করা হয়। তাঁর সাক্ষ্যে অপারেশনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরবর্তী পরিণতির বিষয়টিও উঠে আসে।

জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে চলমান গুমের মামলায় এর আগে সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়াসহ সেনাবাহিনী ও র‌্যাবের কর্মকর্তারা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার পরবর্তী ধাপে তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য নেওয়ার কথা রয়েছে। এরপর রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে বিচারিক কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে যাবে।

ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপিত সাক্ষ্য অনুযায়ী, মামলাটিতে ২০১০ ও ২০১১ সালের কয়েকটি কথিত গুম ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা গুরুত্ব পেয়েছে। এসব ঘটনায় কারা জড়িত ছিলেন, কীভাবে ঘটনাগুলো সংঘটিত হয়েছিল এবং সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা কী ছিল—সাক্ষ্য ও অন্যান্য প্রমাণের মাধ্যমে সেসব বিষয় যাচাই করা হচ্ছে।

মেজর সাব্বিরের দেওয়া বিবরণ এখন মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি অংশ। তাঁর সাক্ষ্যে উঠে আসা অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত সত্যতা ও দায় নির্ধারণ করবে ট্রাইব্যুনাল সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক পর্যালোচনা করে। বিগত ১৬ বছরে গুমের অভিযোগসংক্রান্ত যেসব মামলা বিচারিক পর্যায়ে এসেছে, তার মধ্যে এই মামলাটি বর্তমানে শেষ ধাপের দিকে রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category