মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও উত্তেজনা আরও বিপজ্জনক দিকে মোড় নিচ্ছে বলে সতর্ক করেছে পাকিস্তান। বিশেষ করে ইয়েমেনে হুথিদের সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি, সৌদি আরবে ধারাবাহিক হামলা এবং লোহিত সাগর উপকূলে সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাতকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশটি।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন জাতিসংঘে পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি আসিম ইফতিখার আহমেদ।
তিনি বলেন, ইয়েমেনের ভেতরে হুথিদের সামরিক কার্যক্রম বৃদ্ধি এবং সৌদি আরবের ওপর অব্যাহত হামলা আঞ্চলিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। এর সঙ্গে লোহিত সাগর উপকূলে সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাত যুক্ত হওয়ায় পুরো অঞ্চল একটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
আসিম ইফতিখার আহমেদ বলেন, ‘ইয়েমেনের অভ্যন্তরে হুথিদের সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি, সৌদি আরবের ওপর অব্যাহত হামলা এবং লোহিত সাগর উপকূলে সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাত পুরো পরিস্থিতিকে একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক মোড়ের দিকে নিয়ে এসেছে।’
জাতিসংঘে পাকিস্তানের প্রতিনিধি সৌদি আরবের ওপর হুথি বাহিনীর পরিচালিত সব হামলার তীব্র নিন্দা জানান। একই সঙ্গে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমিয়ে পরিস্থিতিকে শান্ত ও স্থিতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
পাকিস্তানের অবস্থান তুলে ধরে আসিম ইফতিখার বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক উদ্যোগ আরও জোরদার করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পর্যায়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার বিষয়ে পাকিস্তানের অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাতের ক্ষেত্রে ইয়েমেন ও লোহিত সাগর গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। লোহিত সাগর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও নৌ চলাচলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হওয়ায় এই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে এর প্রভাব শুধু সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাকিস্তানের বক্তব্যে তাই সামরিক উত্তেজনা কমানোর পাশাপাশি কূটনৈতিক উদ্যোগের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দেশটির পক্ষ থেকে সৌদি আরবের ওপর হামলার নিন্দার পাশাপাশি বৃহত্তর আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।
পাকিস্তানের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন ইয়েমেন, সৌদি আরব এবং লোহিত সাগরকে ঘিরে সামরিক তৎপরতা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ কতটা দ্রুত নেওয়া যায়, এখন সেটিই আন্তর্জাতিক মহলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগ।