খুলনার দাকোপে প্রেমের টানে এসে বাংলাদেশি এক তরুণীকে বিয়ে করেছেন চীনের এক প্রকৌশলী। ৩৫ বছর বয়সী লিও হিউ নামের ওই চীনা নাগরিকের সঙ্গে ২৪ বছর বয়সী ময়নার বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে তার পরিবার। বিয়ের পর লিও ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন এবং তার নতুন নাম রাখা হয়েছে হাসিব।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দাকোপ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ খায়রুল বাসার। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, এর আগে গত সোমবার তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।
ময়না দাকোপ উপজেলার বারুইখালী এলাকার বিল্লাল বিশ্বাসের মেয়ে। আর লিও হিউ চীনের জিয়াংসি প্রদেশের ইছুন শহরের বাসিন্দা। পেশায় তিনি একজন প্রকৌশলী।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় নয় মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে লিও ও ময়নার পরিচয় হয়। যোগাযোগের একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় এবং পরে তা প্রেমের সম্পর্কে গড়ায়। দীর্ঘ সময় অনলাইনে যোগাযোগের পর সম্পর্কটিকে বিয়েতে রূপ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তারা।
গত সোমবার বাংলাদেশে আসেন লিও। পরদিন আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ময়নার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। বিয়ের আগে নোটারি পাবলিকের এফিডেভিটের মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন লিও। এরপর রেজিস্ট্রি কাবিনের মাধ্যমে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।
বর্তমানে নবদম্পতি ময়নার বাবার বাড়ি বারুইখালীতে অবস্থান করছেন। দূরদেশের একজন মানুষ জামাই হয়ে আসায় পরিবারের পাশাপাশি স্থানীয়দের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
ময়না জানান, লিওর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের ক্ষেত্রে ভাষাগত কিছুটা সমস্যা রয়েছে। তিনি লিওর ভাষা অল্প অল্প বুঝতে পারেন। প্রয়োজন হলে মোবাইল অ্যাপের সাহায্যে দুজন নিজেদের মধ্যে কথা বলেন। ময়নার ভাষ্য, লিও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করছেন। বাংলাদেশের খাবার এবং গ্রামের পরিবেশও তার পছন্দ হয়েছে।
বিয়ের পর বাংলাদেশে কিছুদিন থাকার পরিকল্পনা রয়েছে লিওর। এরপর স্ত্রী ময়নাকে সঙ্গে নিয়ে চীনে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। ময়নার বাবা বিল্লাল বিশ্বাসও জামাইকে নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
বিল্লাল বিশ্বাস বলেন, লিওকে তার পছন্দ হয়েছে। তিনি জানান, প্রায় এক মাস ছুটি কাটিয়ে লিও চীনে ফিরে যাবেন। পরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে আবার বাংলাদেশে এসে ময়নাকে আনুষ্ঠানিকভাবে চীনে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
জানা গেছে, ময়নার এর আগে একটি বিয়ে হয়েছিল। আগের স্বামীর সঙ্গে তার বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে এবং তিনি এক সন্তানের জননী।
এদিকে, বিদেশি নাগরিকের সঙ্গে স্থানীয় এক নারীর বিয়ের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি পুলিশের নজরেও আসে। দাকোপ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ খায়রুল বাসার বলেন, বারুইখালী এলাকায় এক চীনা যুবক বাংলাদেশি নারীকে বিয়ে করেছেন—এমন খবর পাওয়ার পর পুলিশ খোঁজ নেয়। পরে তারা জানতে পারেন, লিও বৈধভাবে বাংলাদেশে এসে স্থানীয় ওই নারীকে বিয়ে করেছেন।
প্রেমের সূত্রে দুই ভিন্ন দেশের মানুষের এই বিয়ে এখন দাকোপের বারুইখালী এলাকায় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। ভাষা, সংস্কৃতি ও ভৌগোলিক দূরত্ব পেরিয়ে গড়ে ওঠা এই সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত কীভাবে নতুন জীবনের পথে এগোয়, সেটিই এখন পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয়দের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু।