কুমিল্লার দেবিদ্বারে পূবালী ব্যাংকের শাখার ভেতর গ্রাহকের চার লাখ টাকা চুরির ঘটনায় বিপ্লব হোসেন (৪০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার সকালে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কাঞ্চনপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে এক লাখ ৬১ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার বিপ্লব হোসেন চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানার বড় দুধপাতিলা গ্রামের নুরু মিয়ার ছেলে।
দেবিদ্বার সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. শাহিন মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ কাজ করছিল। তদন্তের ধারাবাহিকতায় তথ্যপ্রযুক্তি ও বিভিন্ন সূত্রের সহায়তায় বিপ্লবের অবস্থান শনাক্ত করে ঝিনাইদহে অভিযান চালানো হয়।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টা ২৫ মিনিটের দিকে দেবিদ্বার পূবালী ব্যাংক শাখার ভেতরে টাকা গুনছিলেন গ্রাহক মো. জাকির হোসেন। তিনি ব্যাংকের একটি সোফায় বসে নিজের চার লাখ টাকা গুনছিলেন। এ সময় পেছন থেকে তার টাকাগুলো নিয়ে পালিয়ে যায় এক ব্যক্তি।
ঘটনার পর ব্যাংকের ভেতরের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়। পরে ওই ফুটেজের একটি অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে। ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ চুরির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্তের চেষ্টা শুরু করে।
টাকা চুরির ঘটনায় একই দিন রাত ১০টার দিকে দেবিদ্বার থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী জাকির হোসেন। তিনি দেবিদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুর গ্রামের চানমিয়া সরকার বাড়ির মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে।
মামলার পর পুলিশ ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে। ব্যাংকের ভেতরে সংঘটিত হওয়ায় সিসিটিভি ফুটেজ, ঘটনার সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের তথ্যসহ বিভিন্ন বিষয় যাচাই করা হয়। একপর্যায়ে বিপ্লব হোসেনের সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য পেয়ে তার অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালানো হয়।
শুক্রবার সকাল সোয়া ৭টার দিকে ঝিনাইদহ সদর থানার কাঞ্চনপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপ্লব হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে এক লাখ ৬১ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। তবে চুরি হওয়া চার লাখ টাকার মধ্যে বাকি অর্থ এখনো উদ্ধার হয়নি।
দেবিদ্বার সার্কেলের সিনিয়র এএসপি মো. শাহিন মিয়া বলেন, ঘটনার পর থেকেই পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। শুক্রবার সকালে ঝিনাইদহ থেকে বিপ্লব নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার কাছ থেকে এক লাখ ৬১ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি টাকা উদ্ধারের জন্যও অভিযান ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে দেবিদ্বার থানায় নিয়ে আসা হবে। একই সঙ্গে চুরি যাওয়া অবশিষ্ট টাকা উদ্ধার এবং ঘটনায় আরও কেউ জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।