রাজধানীর গুলশান-১ এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিলকে কেন্দ্র করে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার দুপুরে ভোলা মসজিদের সামনে থেকে মিছিল বের করার চেষ্টা হলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় মিছিলকারীরা ককটেল ছুড়ে পালিয়ে যান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, দুপুর পৌনে ১২টার দিকে গুলশান-১-এর ভোলা মসজিদের সামনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আকস্মিকভাবে মিছিল বের করার চেষ্টা করেন। পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে এগিয়ে গেলে মিছিলকারীদের কয়েকজন ককটেল নিক্ষেপ করেন। এর মধ্যে দুটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দুই রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে।
গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দাউদ হোসেন জানান, মিছিলটি খুব অল্প সময় স্থায়ী হয়। তার ভাষ্য, পুরো ঘটনা পৌনে এক মিনিটের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। ওই সময়ের মধ্যেই দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তবে পুলিশের রাবার বুলেটের আঘাতে কেউ আহত হয়েছেন—এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনাস্থল থেকে আরও পাঁচটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করেছে পুলিশ। বিস্ফোরিত ককটেলগুলোর কারণে এলাকায় কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
পুলিশ জানিয়েছে, মিছিল থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার দাবিসংক্রান্ত স্লোগান দেওয়া হচ্ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতেও কয়েকশ মানুষকে মিছিল করতে দেখা গেছে। ভিডিওতে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে শোনা যায়।
ঘটনার সময় পুলিশ দুজনকে আটক করে। তাদের নাম মো. আরাফাত ও আব্দুর রহিম। পুলিশ বলছে, তাদের রাজনৈতিক পরিচয়সহ অন্যান্য তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই শেষে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মিছিলের সময় ককটেল বিস্ফোরণ এবং অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধারের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করার চেষ্টাও চলছে।
গুলশানের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত এলাকায় আকস্মিক মিছিল এবং বিস্ফোরণের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। তবে পুলিশের দ্রুত হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।