চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের পর ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মোবারক সরদার নামে এক চায়ের দোকানির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় লোকজন শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে তাকে মারধর করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন মাস আগে মোবারক সরদার কৌশলে ওই কিশোরীকে ডেকে নিজের বসতঘরে নিয়ে যান। সে সময় বাড়িতে পরিবারের অন্য কোনো সদস্য ছিলেন না বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে তিনি কিশোরীকে ধর্ষণ করেন এবং ঘটনার দৃশ্য মুঠোফোনে ধারণ করেন। পরে বিষয়টি কাউকে জানালে ক্ষতি করার হুমকি দিয়ে কিশোরীকে চুপ থাকতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ।
স্থানীয়রা জানান, কয়েক দিন আগে ওই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি জানাজানি হয়। এতে কিশোরীর পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। পরে বৃহস্পতিবার রাতে কিশোরীর বাড়িতে বিষয়টি নিয়ে সালিস বসে। তবে অভিযুক্ত মোবারক সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। তার পক্ষের কয়েকজন সালিসে অংশ নিলেও কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
এর পরদিন শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে মোবারক কিশোরী ও তার পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেন বলে অভিযোগ। তাদের ‘দেখে নেওয়ার’ কথাও বলা হয়। এ সময় আশপাশের লোকজন জড়ো হয়ে তাকে আটক করেন এবং মারধর করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মোবারককে স্থানীয়দের কাছ থেকে উদ্ধার করে। শারীরিক অবস্থার কারণে তাকে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
জানা গেছে, মোবারক সরদারের এলাকায় একটি চায়ের দোকান রয়েছে। তার পাঁচ ছেলে-মেয়ে। ভুক্তভোগী কিশোরী তার এক স্বজনের মেয়ে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
ভুক্তভোগীর বাবা বলেন, মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনায় তার জীবন ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছে। তিনি অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।
মতলব দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান মানিক বলেন, এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা করবেন। মামলার পর অভিযোগের বিষয়ে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী শিশুর পরিচয় ও ব্যক্তিগত তথ্য গোপন রাখা জরুরি। একই সঙ্গে ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হয়ে থাকলে সেটিও আইনগতভাবে গুরুতর বিষয় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।