• শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৬ অপরাহ্ন

এআই অশ্লীল ছবি বানিয়ে সাবেক স্ত্রীকে ১০ লাখ টাকার হুমকি

newsline24 / ৭ Time View
Update : শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
এআই অশ্লীল ছবি বানিয়ে সাবেক স্ত্রীকে ১০ লাখ টাকার হুমকি
এআই অশ্লীল ছবি বানিয়ে সাবেক স্ত্রীকে ১০ লাখ টাকার হুমকি

টাঙ্গাইলের মধুপুরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে সাবেক স্ত্রীর অশ্লীল ছবি তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে রাসেল রানা (২৭) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযোগ রয়েছে, তৈরি করা এসব ছবি ও ব্যক্তিগত ভিডিও অনলাইনে প্রকাশের ভয় দেখিয়ে তিনি সাবেক স্ত্রীর কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের পর রাসেল রানাকে আদালতে হাজির করা হলে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রুহুল আমিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ সেপ্টেম্বর রাতে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার নাদামপুর বাজার এলাকার একটি পোলট্রি খামারের স্টাফ কোয়ার্টার থেকে রাসেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মধুপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সেলিম হোসেন শিকদার জানান, থানায় মামলা হওয়ার পর থেকে রাসেল আত্মগোপনে ছিলেন। পরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

রাসেল রানা মধুপুর উপজেলার শোলাকুড়ি ইউনিয়নের চুনিয়া গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে। স্থানীয় ইউপি সদস্য শামছুল ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের জুলাই মাসে শালিখা উত্তরপাড়া গ্রামের শিউলি আখতারের সঙ্গে রাসেল রানার বিয়ে হয়। বিয়ের সময় কাবিনের পরিমাণ ছিল আড়াই লাখ টাকা।

তবে দাম্পত্য জীবনে যৌতুকের দাবিসহ শারীরিক নির্যাতন এবং স্বামীর মাদকাসক্তির অভিযোগ ওঠে। এসব কারণে ২০২৪ সালের মে মাসে শিউলি আখতার রাসেলকে তালাক দেন।

পরবর্তীতে প্রায় এক বছর পর শিউলি প্রতিবেশী জসিম উদ্দীনের ছেলে আজাহারুলকে বিয়ে করেন। অভিযোগ, দ্বিতীয় বিয়ের পর থেকেই রাসেল ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এরপর তিনি শিউলিকে ফোন করে তাদের দাম্পত্য জীবনের কিছু ঘনিষ্ঠ ছবি ও ভিডিও তার কাছে রয়েছে বলে হুমকি দিতে শুরু করেন।

একপর্যায়ে রাসেল ১০ লাখ টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। টাকা না দিলে ওই ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। টাকা পাঠানোর জন্য তিনি একটি বিকাশ নম্বরও দেন বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

শিউলির পরিবার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। অভিযোগ রয়েছে, এরপর রাসেল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি করা কিছু অশ্লীল ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। পাশাপাশি পর্নোগ্রাফিক ভিডিও অনলাইনে প্রকাশের হুমকিও দিতে থাকেন। এআই দিয়ে তৈরি ওইসব ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর শিউলির পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

ঘটনার পর গত ১ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইলের ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ করেন শিউলি আখতার। আদালতের নির্দেশে ৪ সেপ্টেম্বর মধুপুর থানায় অভিযোগটি নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়।

তদন্ত কর্মকর্তা সেলিম হোসেন শিকদার বলেন, মামলা হওয়ার পর রাসেল আত্মগোপনে চলে যান। পরে তথ্যপ্রযুক্তি ও অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে তার অবস্থান শনাক্ত করে মৌলভীবাজারের নাদামবাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের দাবি, রাসেল রানার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি করা বেশ কিছু অশ্লীল ছবি পাওয়া গেছে। এসব ছবি যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আইডি থেকে ছড়ানো হয়েছিল, সেটিও শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের পর রাসেল রানাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

ডিজিটাল প্রযুক্তির সহজলভ্যতার কারণে বর্তমানে কারও ছবি বা পরিচয় ব্যবহার করে কৃত্রিমভাবে অশ্লীল বা আপত্তিকর কনটেন্ট তৈরি করে হয়রানি ও ব্ল্যাকমেলের ঝুঁকি বেড়েছে। ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের মতো কর্মকাণ্ড শুধু সামাজিকভাবে ক্ষতিকর নয়, এর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া যায়। মধুপুরের এই ঘটনাতেও অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল কনটেন্ট ও ব্যবহৃত প্রযুক্তিগত মাধ্যম শনাক্ত করার চেষ্টা করছে পুলিশ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category