বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে বাড়ির পথে ছুটে আসছিলেন ছেলে। কিন্তু বাবাকে শেষবারের মতো দেখতে ও জানাজায় অংশ নেওয়ার সেই যাত্রাই শেষ পর্যন্ত তাঁর নিজের জীবনের শেষ যাত্রায় পরিণত হলো। কুষ্টিয়ায় ট্রাকের চাপায় নূরে আলম জিকু (৩৫) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তাঁর সঙ্গে মোটরসাইকেলে থাকা আকিদুল ইসলাম গুরুতর আহত হয়েছেন।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের সদর উপজেলার আলামপুর ইউনিয়নের স্বস্তিপুর এলাকায় জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের সামনে মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত নূরে আলম জিকু কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার শান লালনগর এলাকার জামিন দোকানদারের ছেলে। তিনি মাগুরায় ব্যবসা করতেন বলে জানা গেছে। বাবার মৃত্যুর সংবাদ পাওয়ার পর তিনি দ্রুত বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাবার জানাজায় অংশ নিতে জিকু তাঁর ভাইরাভাই আকিদুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে মাগুরা থেকে দৌলতপুরের নিজ বাড়ির উদ্দেশে যাত্রা করেন। পথে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের স্বস্তিপুর এলাকায় পৌঁছালে একটি ট্রাক মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়।
ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কে পড়ে যায়। এ সময় জিকুও ছিটকে মহাসড়কের ওপর পড়ে যান। ঠিক তখনই পেছন থেকে আসা আরেকটি ট্রাক তাঁর মাথার ওপর দিয়ে চলে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলে থাকা আকিদুল ইসলামও গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও শোকের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। আহত আকিদুলকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি তদন্ত করে দুর্ঘটনার জন্য দায়ী যানবাহন শনাক্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। কুষ্টিয়া চৌড়হাস হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মহিদুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত যানটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।
বাবার মৃত্যুর সংবাদ শুনে শেষ বিদায়ে অংশ নিতে ছুটে আসা জিকু নিজেই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানোয় ঘটনাটি স্বজনদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।