• সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৫ অপরাহ্ন

সাভারে এসআই হত্যায় মূল হোতাসহ গ্রেপ্তার ৯

newsline24 / ১৩ Time View
Update : সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সাভারে এসআই হত্যায় মূল হোতাসহ গ্রেপ্তার ৯
সাভারে এসআই হত্যায় মূল হোতাসহ গ্রেপ্তার ৯

সাভারের আমিনবাজারে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) উপপরিদর্শক (এসআই) আলতাফ হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মূল হোতাসহ নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে জহিরুল ইসলামকে এ ঘটনায় মূল হোতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করেছে সাভার মডেল থানা।

সোমবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম। তিনি জানান, আমিনবাজার এবং মুন্সীগঞ্জ সদর থানাধীন লঞ্চঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার জহিরুল ইসলামের ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। অপর আট আসামির প্রত্যেকের জন্য সাত দিন করে রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

অটোরিকশা রাখা নিয়ে বিরোধ, পরে ভয়াবহ হামলা

র‌্যাব ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে সাভারের আমিনবাজারের বরদেশী এলাকায় অটোরিকশা রাখাকে কেন্দ্র করে একটি বিরোধের সূত্রপাত হয়। রাত সাড়ে ৮টা থেকে রাত ১১টার মধ্যে কোনো একসময় অটোরিকশা গ্যারেজের মালিককে মারধর করা হয়।

ঘটনাটি দেখে এর প্রতিবাদ করেন এসআই আলতাফ হোসেন। এ সময় গ্যারেজ মালিককে মারধরকারীদের সঙ্গে আলতাফ হোসেন ও তাঁর ছেলে আরিফুলের বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়।

একপর্যায়ে হামলাকারীরা আলতাফ হোসেনকে মারধর করেন। তখন তিনি নিজেকে পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। অভিযোগ অনুযায়ী, পুলিশ পরিচয় দেওয়ার পরও হামলাকারীরা পিছু হটেনি; বরং পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে পাশের একটি পোশাক কারখানার ভেতরে আশ্রয় নেন আলতাফ হোসেন। ওই কারখানাতেই তাঁর ছেলে আরিফুল কাজ করতেন।

গেট ভেঙে কারখানায় ঢুকে হামলার অভিযোগ

মামলার এজাহার ও র‌্যাবের তথ্য অনুযায়ী, এরপর হামলাকারীরা আরও ১৫ থেকে ২০ জন সহযোগীকে ডেকে আনে। পরে তারা পোশাক কারখানার গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে।

সেখানে এসআই আলতাফ হোসেন ও তাঁর ছেলে আরিফুলের ওপর দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালানো হয়। দুজনকেই বেধড়ক মারধর করা হয়েছে বলে মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।

হামলার সময় কারখানার মেশিন ও আসবাবপত্রও ভাঙচুর করা হয়। এতে কারখানাটির ভেতরে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়।

গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা বাবা-ছেলেকে উদ্ধার করে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক এসআই আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।

মামলায় ১৫ জনের নাম

এসআই আলতাফ হোসেন হত্যার ঘটনায় তাঁর স্ত্রী বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় মামলা করেন। মামলায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদেরও আসামি করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার নয়জন হলেন—জহিরুল ইসলাম, আলাউদ্দিন (২৬), আপন (৩০), জিহাদ (২০), ইমরান (২৬), নূর মোহাম্মদ রুদ্র (২৪), মো. রাকিব মিয়া (২৮), ছাব্বির আহম্মেদ (২৪) ও মো. ওয়াসিম (৪০)।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আলাউদ্দিন সাভারের আমিনবাজার এলাকার মোজাম্মেলের ছেলে। আপন ও জিহাদ সামসুলের ছেলে। ইমরান মৃত নজরুলের ছেলে। নূর মোহাম্মদ রুদ্র মৃত আব্দুল জলিলের ছেলে। রাকিব মিয়া মো. বজলু শেখের ছেলে, ছাব্বির আহম্মেদ মৃত হালিম মিয়ার ছেলে এবং ওয়াসিম মো. জিন্নত আলীর ছেলে।

র‌্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে সাভার থানায় তিনটি মাদক মামলা রয়েছে।

আরও আসামি গ্রেপ্তারে অভিযান

সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল আলম বলেন, পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থার যৌথ অভিযানে এ পর্যন্ত নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

তিনি জানান, ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশের এই অভিযানের মধ্যেই এখন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে—হামলার সময় কারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল, কারা হামলায় সরাসরি অংশ নিয়েছিল এবং কার নির্দেশনায় বা নেতৃত্বে হামলাটি সংঘটিত হয়েছিল। এসব বিষয় নিশ্চিত করতে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category