বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত দেশের ১৪ লাখের বেশি কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় ব্যাংকগুলোকে সরকারের পক্ষ থেকে ১ হাজার ৩৫২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের বিরোধী দলের সদস্য মো. রুহুল আমিনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য জানান।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত মোট ১৪ লাখ ৩৪ হাজার ৪৮২ জন কৃষক এই ঋণমওকুফ সুবিধা পেয়েছেন। যেসব কৃষকের নেওয়া কৃষিঋণের পরিমাণ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত, তাদের ঋণের আসল ও সুদ—দুই-ই মওকুফ করা হয়েছে। ফলে ক্ষুদ্র ঋণগ্রহীতা কৃষকদের ব্যাংকের কাছে থাকা দায় সরকারের অর্থে পরিশোধ করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী সংসদকে জানান, এই কর্মসূচি কোনো নির্দিষ্ট জেলা বা অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। দেশের সব উপজেলার কৃষকই এর আওতায় সুবিধা পেয়েছেন। ফলে কৃষি খাতের ক্ষুদ্র ঋণগ্রহীতাদের জন্য এটি দেশব্যাপী একটি সহায়তা কর্মসূচি হিসেবে কার্যকর হয়েছে।
কৃষি খাতে ছোট অঙ্কের ঋণ সাধারণত বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ, কৃষি উপকরণসহ বিভিন্ন মৌসুমি ব্যয় মেটাতে ব্যবহৃত হয়। সময়মতো ঋণ পরিশোধ করতে না পারলে সুদ ও অন্যান্য দায়ের কারণে কৃষকের আর্থিক চাপ বাড়তে পারে। এ ধরনের ঋণ মওকুফের ফলে সুবিধাভোগী কৃষকদের পুরোনো ঋণের দায় থেকে বের হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
সরকারের পরিশোধ করা অর্থের হিসাবে দেখা যায়, ১৪ লাখ ৩৪ হাজার ৪৮২ জন কৃষকের জন্য মোট ১ হাজার ৩৫২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা ব্যাংকগুলোকে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ গড়ে একজন কৃষকের বিপরীতে সরকারের পরিশোধের পরিমাণ প্রায় ৯ হাজার ৪৩৩ টাকা। তবে এটি কেবল মোট অর্থ ও মোট সুবিধাভোগীর ভিত্তিতে করা গড় হিসাব; প্রত্যেক কৃষকের ঋণের পরিমাণ এক ছিল না।
সংসদে একই প্রশ্নোত্তর পর্বে চুয়াডাঙ্গা জেলার করদাতার সংখ্যা নিয়েও তথ্য দেন অর্থমন্ত্রী। তিনি জানান, বর্তমানে জেলায় ৭২ হাজার ৪৬৩ জন টিআইএনধারী করদাতা রয়েছেন।
তবে টিআইএনধারী করদাতাদের সবাই যে সংশ্লিষ্ট করবর্ষে রিটার্ন দাখিল করেছেন, তা নয়। ২০২৫-২৬ করবর্ষে চুয়াডাঙ্গা থেকে ২১ হাজার ৫৬৭ জন রিটার্ন দাখিল করেছেন।
অর্থাৎ, টিআইএনধারী মোট করদাতার তুলনায় ওই করবর্ষে রিটার্ন দাখিলকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৩০ শতাংশ। বাকি টিআইএনধারীদের মধ্যে কারা রিটার্ন দাখিলের আওতাধীন ছিলেন বা অন্য কোনো কারণে রিটার্ন দাখিল করেননি—সংসদে দেওয়া এই উত্তরে সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।