• সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৩৫ পূর্বাহ্ন

ছয় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ১.৪৮ লাখ কোটি টাকা

newsline24 / ১৯ Time View
Update : রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ছয় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ১.৪৮ লাখ কোটি টাকা
ছয় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ১.৪৮ লাখ কোটি টাকা

দেশের রাষ্ট্র-মালিকানাধীন ছয় ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এসব ব্যাংকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণ রয়েছে জনতা ব্যাংক পিএলসিতে। গত ৩০ জুন ২০২৬ ভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী এ তথ্য জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আলীমের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।

সংসদ সদস্য তাঁর প্রশ্নে জানতে চান, দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে বর্তমানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কত এবং ব্যাংকভিত্তিক এর হিসাব কী। জবাবে অর্থমন্ত্রী রাষ্ট্র-মালিকানাধীন ছয়টি ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পৃথক হিসাব তুলে ধরেন।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের দেওয়া হিসাবে, ছয় ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণের মধ্যে এককভাবে সবচেয়ে বড় অংশ জনতা ব্যাংকের। ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৭৫ হাজার ৩৯৬ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। অর্থাৎ ছয় ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণের অর্ধেকেরও বেশি রয়েছে এই ব্যাংকটিতে।

খেলাপি ঋণের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি। ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ২৯ হাজার ২৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। রূপালী ব্যাংক পিএলসিতে খেলাপি ঋণ রয়েছে ১৯ হাজার ২৮১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা এবং সোনালী ব্যাংক পিএলসিতে ১৫ হাজার ৪৮ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।

অন্যদিকে বেসিক ব্যাংক পিএলসির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৮ হাজার ১৩১ কোটি ৯ লাখ টাকা। ছয় ব্যাংকের মধ্যে সবচেয়ে কম খেলাপি ঋণ রয়েছে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পিএলসিতে। এই ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৮৮৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।

ব্যাংকভিত্তিক খেলাপি ঋণের চিত্র

৩০ জুন ২০২৬-এর হিসাব অনুযায়ী রাষ্ট্র-মালিকানাধীন ছয় ব্যাংকের খেলাপি ঋণ হলো—

  • জনতা ব্যাংক পিএলসি: ৭৫,৩৯৬.৬৭ কোটি টাকা
  • অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি: ২৯,০২৯.৬৭ কোটি টাকা
  • রূপালী ব্যাংক পিএলসি: ১৯,২৮১.৭৪ কোটি টাকা
  • সোনালী ব্যাংক পিএলসি: ১৫,০৪৮.৩৯ কোটি টাকা
  • বেসিক ব্যাংক পিএলসি: ৮,১৩১.০৯ কোটি টাকা
  • বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পিএলসি: ৮৮৮.৭৯ কোটি টাকা

সব মিলিয়ে এই ছয় ব্যাংকের খেলাপি ঋণের অঙ্ক ১ লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে শুধু জনতা ব্যাংকের খেলাপি ঋণই ৭৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। ফলে রাষ্ট্র-মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ পরিস্থিতিতে ব্যাংকভেদে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সরকারি বিভিন্ন প্রকল্প, শিল্প ও ব্যবসা খাতসহ নানা ধরনের ঋণ কার্যক্রমে এসব ব্যাংকের সম্পৃক্ততা রয়েছে। ফলে বড় অঙ্কের ঋণ খেলাপি হয়ে পড়লে ব্যাংকগুলোর আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও ঋণ আদায়ের সক্ষমতার ওপর চাপ তৈরি হওয়ার বিষয়টি সামনে আসে।

সংসদে প্রকাশিত সর্বশেষ হিসাব সেই চাপেরই বড় একটি চিত্র তুলে ধরেছে। তবে খেলাপি ঋণের এই অঙ্কের মধ্যে কোন খাতে কত টাকা রয়েছে, কতটুকু আদায়যোগ্য এবং এর মধ্যে কত অংশ দীর্ঘদিন ধরে অনাদায়ী—এসব বিষয়ে মন্ত্রীর দেওয়া তথ্যে বিস্তারিত কোনো হিসাব উল্লেখ করা হয়নি।

সংসদে অর্থমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত রাষ্ট্র-মালিকানাধীন ছয় ব্যাংকের সম্মিলিত খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে জনতা ব্যাংকের অংশই সবচেয়ে বড়, আর বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের খেলাপি ঋণের অঙ্ক সবচেয়ে কম।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category